সচিনের পরামর্শই পাল্টে দিয়েছে , কাপ জিতে বললেন সঞ্জু !

সঞ্জু, অভিষেক, হার্দিক, সূর্য - এঁরা প্রত্যেকেই একরকমের 'হিরো'। যাঁরা স্বপ্ন দেখান এক হেরে যাওয়া প্রজন্মকে। যাঁরা বোঝান, অন্যের সাফল্যে উদযাপন করা দোষের নয়। যাঁরা বোঝান, চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা করে পারফর্ম করার নামই জীবন।

সচিনের পরামর্শই পাল্টে দিয়েছে , কাপ জিতে বললেন সঞ্জু !
Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Mar 09, 2026 | 8:08 PM

কলকাতা : এরপর আর কেউ বলবে না নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম অভিশপ্ত। এরপর কেউ বলবে না ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আর কোনও মিম বের হবে না যে, রবিবার ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়না। আজ যাবতীয় মিথ, মিম ভেঙে ‘অভিশপ্ত’ আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামেই চ্যাম্পিয়ন হল ভারতীয় দল। তৃতীয়বারের জন্য ট্রফি জিতল ভারত। আবার তীরে এসে তরী ডুবল নিউজিল্যান্ডের। ক্রিকেট দেবতা যে বারবার কিউয়িদের জন্যই নিষ্ঠুর হয়ে ধরা দেন, আজ আবার প্রমাণ করলেন মিচেল স্যান্টনার। সেই জন্যেই খুশি অভিষেক থেকে বরুণ, সূর্য থেকে তিলক। এ যেন বহু বিনিদ্র রাতের পর এক তৃপ্তির ঘুম দেবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। যার আভাস পাওয়া গেল তাঁদের কথাতেই।

অভিষেক শর্মাকে নিয়ে আনন্দিত সবাই। হবেন নাই বা কেন ? ফাইনাল বাদ দিয়ে বাকি প্রতিযোগিতা যত জলদি অভিষেক ভুলে যাবেন, ততই মঙ্গল তাঁর জন্য। তাঁর কথায়,”আমি নিজেই নিজের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু অধিনায়ক ও কোচ আমাকে সমর্থন করেছেন। প্রতিযোগিতার মাঝে আমি ভেঙে পড়েছিলাম কিন্তু দল আমাকে সমর্থন করেছে।” আর এক ওপেনার, ভারতের নতুন ‘চেত্তা’, সঞ্জু স্যামসন অপেক্ষা করছিলেন আজকের দিনের। তিনি প্রায় আবেগঘন গলায় বলেই দিলেন,”আমি ২ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছি। আগের বিশ্বকাপের দলে আমি ছিলাম তবুও খেলতে পারিনি। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলাম তবুও কাউকে বুঝতে দিইনি নিজের মনের ভিতর কি চলছে। সচিন স্যার আমাকে ফোন করেছেন, আমিও তাঁর পরামর্শ নিয়েছি। তিনি যেভাবে আমাকে ওই খারাপ সময়ে পথ দেখিয়েছেন, আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।” সবার মন জয় করে নিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তিনি বললেন,”আমার মধ্যে এখনও ১০ বছরের ক্রিকেট বাকি আছে এবং আমি এখনও ১০টা ট্রফি দেশের হয়ে জিততে চাই।”

সঞ্জু, অভিষেক, হার্দিক, সূর্য – এঁরা প্রত্যেকেই একরকমের ‘হিরো’। যাঁরা স্বপ্ন দেখান এক হেরে যাওয়া প্রজন্মকে। যাঁরা বোঝান, অন্যের সাফল্যে উদযাপন করা দোষের নয়। যাঁরা বোঝান, চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা করে পারফর্ম করার নামই জীবন। অপয়া তকমা তো ঘুচল। কিন্তু তবুও, নিউজিল্যান্ডকে দেখে খারাপ লাগে কোথাও। ২০১৫, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল, তারপর আবার আজকের ফাইনাল। বারবার ফাইনালেই হারে কিউয়িরা। কোথাও কি ক্রিকেট দেবতা রুষ্ট তাঁদের প্রতি ? নাহলে ৫টা ক্যাচ মিস করলেন কেন ফিলিপ্সরা ? ক্রিকেট দেবতা যে শুধু নেন না, দেনও, তা সঞ্জুকে দেখে বোঝা যায়। এক মাসের মধ্যেই দলে ব্রাত্য থেকে টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার। এক মাসেই ফকির, পরের মাসেই রাজা। সরি, ভুল বললাম। চেত্তা !

Follow Us