Hardik Pandya: শ্রেয়সরা দোষী হলে হার্দিক কেন ছাড় পাবেন? প্রশ্ন তুলে দিলেন এক প্রাক্তন
একই অপরাধে দু'জনের যদি কড়া শাস্তি হয়, আর একজনের গলায় ফুলের মালা চড়ানো হবে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা কেন দিচ্ছেন না, জাতীয় জিজ্ঞাসা হয়ে উঠতে পারে। হবে নাই বা কেন? টেস্ট না খেললে রঞ্জি খেলা যদি নিয়ম হয়, ওয়ান ডে বা টি-টোয়েন্টি না থাকলে সাদা বলের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলবেন না কেন হার্দিক (Hardik Pandya)? তিনি কি নিয়মের উর্ধ্বে?

কলকাতা: মৌচাকে ঢিল মারবে কে? কিংবা ব্যবহার করা যেতে পারে বহু চর্চায় ক্লিশে হয়ে যাওয়া সেই প্রবাদ, বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? লাল বলকে গুরুত্ব না দিলে শাস্তি পেতে হতে পারে, এই ফতোয়া না হয় মেনে নেওয়া গেল। টেস্ট টিমে না থাকলে রঞ্জি ক্রিকেট খেলতেই হবে, তাও না হয় হজম হল। জোড়া দোষে দুষ্ট দুই ক্রিকেটার বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়লেন, বাড়াবাড়ি রকমের সিদ্ধান্ত হলেও মেনে নিতে হল। কিন্তু একই অপরাধে দু’জনের যদি কড়া শাস্তি হয়, আর একজনের গলায় ফুলের মালা চড়ানো হবে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা কেন দিচ্ছেন না, জাতীয় জিজ্ঞাসা হয়ে উঠতে পারে। হবে নাই বা কেন? টেস্ট না খেললে রঞ্জি খেলা যদি নিয়ম হয়, ওয়ান ডে বা টি-টোয়েন্টি না থাকলে সাদা বলের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলবেন না কেন হার্দিক (Hardik Pandya)? তিনি কি নিয়মের উর্ধ্বে?
আর কেউ নন, এই প্রশ্ন তুলে দিলেন ইরফান পাঠান। হার্দিক পান্ডিয়া লাল বলের ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী নন, সেটা বোর্ডকে অনেক আগেই বলে দিয়েছেন। যে কারণে তিনি রঞ্জিতেও খেলেন না বরোদার হয়ে। কিন্তু ভারতের হয়ে ওয়ান ডে বা টি-টোয়েন্টি যখন খেলেন না, তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে সাদা বলের ক্রিকেট ম্যাচে তাঁকে দেখা যায় না কেন? খুবই যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন। যা ইরফানের মতো সাহসী প্রাক্তন ক্রিকেটার করেছেন। তিনি ভালো করেই জানেন, এতে বোর্ড তাঁর উপর চটবে। ধারাভাষ্যকার হিসেবে হয়তো কাজ কমে যেতে পারে। তাও তিনি সত্যি কথা বলতে পিছ-পা হননি।
ইনসুইং ইয়র্কারের মতোই তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ইরফানের। বলেছেন, ‘যদি হার্দিক পান্ডিয়ার মতো ক্রিকেটাররা লাল বলের ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী না হয়, তা হলে জাতীয় টিমের খেলা না থাকলে সাদা বলের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের খেলা উচিত? যদি একই নিয়ম অন্যদের ক্ষেত্রে বলবৎ না হয়, তা হলে ভারতীয় ক্রিকেট কিন্তু কাঙ্খিত সাফল্য কখনওই পাবে না।’
আশ্চর্যের কথা হল, ক্রিকেটার অনুযায়ী বোর্ডের এক-এক রকমের নিয়ম অতীতেও বহুবার দেখা গিয়েছে। হার্দিকের ক্ষেত্রে তাই নিয়ম এক রকম। তাঁর চোট না সারলেও বিশ্বকাপ টিমে সুযোগ ঠিক পেয়ে যান। তাঁর জন্য টিম ডুবলেও দায়ী করা হয় না। অথচ, ঈশানের মানসিক কারণে ক্রিকেট থেকে ছুটি নিতে চাইলেও তাঁর আবেদন না-মঞ্জুর হয়ে যায়। শ্রেয়স রানের মধ্যে নেই, তাই তাঁকে বলা যায়, রঞ্জি খেলতেই হবে। ওয়ান ডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন হার্দিক। ফিটও হয়েছেন অনেক দিন। তাঁকে সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে বাধ্য করা হয়নি কেন? বোর্ড কি নীরবতা ভাঙবে?
