
অপেক্ষাটা ঠিক কতদিনের হিসেব করা কঠিন। বিরাট কোহলি রঞ্জি ট্রফিতে খেলবেন, অপেক্ষা যেন সে সময়ই শুরু হয়েছিল। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের উন্মাদনা প্রবল আকার নেয়। প্রথম দিন সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার দর্শক। অবশ্যই বিরাট কোহলির খেলা দেখতে। কিন্তু দিল্লি ক্যাপ্টেন টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ায় সেই সুযোগ হয়নি। অপেক্ষা নিয়েই ফিরতে হয়েছিল ম্যাচের প্রথম দিন। অবশেষে এল সেই মুহূর্ত। কিন্তু দীর্ঘ স্থায়ী হল না। মাত্র ১৫ ডেলিভারিতেই ইতি বিরাট ইনিংসের।
প্রথম দিনই হয়তো বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখা যেত। দিল্লির ওপেনার অর্পিত রানা ফিরতেই অপেক্ষা শুরু হয়। তবে সনৎ সাঙ্গওয়ান ও তিনে নামা যশ ধূল ক্রিজে পড়ে থাকার চেষ্টা করেন। রেলওয়েজ পেসাররা আনলাকিও ছিল বলা যায়। নয়তো প্রথম দিন আরও উইকেট পড়তে পারত। সনৎ-যশ অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই দিনের খেলা শেষ করেছিলেন। দ্বিতীয় দিনও এই জুটি দুর্দান্ত ব্যাটিং করছিল। তেমনই রেলওয়েজ ক্যাপ্টেন তাঁর তিন পেসারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্পেল করিয়ে চাপে রাখছিলেন দিল্লিকে।
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের দর্শকরা ক্রমশ ধৈর্য হারাচ্ছিলেন। এমনকি রেলওয়েজ বোলাররা আউটের আবেদন করলে গ্য়ালারি থেকেও তাঁদের সঙ্গ দেওয়া হয়েছে। কারণ একটা উইকেট মানেই বিরাট কোহলি ক্রিজে আসবেন। অবশেষে সকাল ১০.৩০টা নাগাদ সেই মুহূর্ত। রেলওয়েজের বাঁ হাতি পেসার রাহুল শর্মা লেগ বিফোর আউট করেন যশ ধূলকে। যদিও বলের হাইট দেখে মনে হচ্ছিল, সেটা স্টাম্পের উপর দিয়েও যেতে পারত। যশ ধূলকে আনলাকিও বলা যায়।
মাঠে প্রবেশ বিরাট কোহলির। শুধু মাত্র দর্শকদের জন্যই নয় উল্টো প্রান্তে থাকা সনৎ সাঙ্গওয়ানের জন্যও দুর্দান্ত মুহূর্ত। বিরাট কোহলির সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সুযোগ! রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে এই সুযোগটা যে আসবে তিনিও হয়তো ভাবেননি। বিরাটকে ক্রিজে দেখে অতিরিক্ত উত্তেজনা রেলওয়েজ বোলারদেরও। রাহুল শর্মা দুর্দান্ত একটি ইয়র্কারে স্বাগত জানান বিরাট কোহলিকে। যদিও অতি উত্তেজনায় নো বল। পা বোলিং ক্রিজ পেরিয়ে অনেক দূরে। ওভার স্টেপিংয়ে আরও একটি নো বল করেন।
অবশেষে নিজের খেলা পঞ্চম ডেলিভারিতে পয়েন্টে বল ঠেলে খাতা খোলেন বিরাট কোহলি। সেট হতে সময় নেওয়ার মরিয়া চেষ্টায় ছিলেন। ডান হাতি পেসার হিমাংশু সাঙ্গওয়ান অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে পরীক্ষা নেন বিরাটের। ১৪তম ডেলিভারিতে ক্রিজ থেকে অনেকটা এগিয়ে জোরালো ড্রাইভে স্ট্রেট বাউন্ডারিতে চার বিরাটের। দেখে মনে হচ্ছিল, যাবতীয় আত্মবিশ্বাস ফেরত এসেছে। কিন্তু পরের ডেলিভারিতে আবারও ক্রিজ থেকে কিছুটা বাইরে বিরাট। ব্যাটে বলে হয়নি। হিমাংশু সাঙ্গওয়ানের ডেলিভারি অফস্টাম্পের সামান্য বাইরে পড়ে ভেতরে ঢুকে বিরাটের অফস্টাম্প ছিটকে দেন। উইকেটটি বেশ কয়েকবার ডিগবাজি খায়।
অপেক্ষার হিসেব কঠিন। দিনের খেলা থেকে ধরলে অন্তত দেড়ঘণ্টা। বিরাটের অফস্টাম্প ছিটকে যেতেই গ্যালারির যেন সব শেষ। ক্রমশ ফাঁকা হতে থাকে। ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই যা অন্তত ১৫ হাজার দর্শকে গমগম করছিল। বিরাটের উইকেটে সংখ্যাটা ১৫০-ও ছিল কি না, সন্দেহ। ১৫ বলে ৬ রানেই প্রথম ইনিংস শেষ বিরাট কোহলির।