ISL 2026, East Bengal FC: ২২ বছর পর শাপমুক্তি, ভারতসেরা লাল-হলুদ ব্রিগেড!

EBFC: আজকের ম্যাচ ঘিরে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। ইস্টবেঙ্গল মাঠে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করেছিল ক্লাব। কার্ড সমস্যায় এই ম্যাচে খেলতে পারেননি ডার্বিতে গোল করা এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। তাই আক্রমণে ইউসুফ, মিগুয়েল, বিপিনকে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন লাল হলুদ কোচ অস্কার।

ISL 2026, East Bengal FC:  ২২ বছর পর শাপমুক্তি, ভারতসেরা লাল-হলুদ ব্রিগেড!
East Bengal becomes the national league champion after 22 years.Image Credit source: Facebook/@East Bengal

| Edited By: Moumita Das

May 21, 2026 | 10:06 PM

 

ইস্টবেঙ্গল – ২ (ইউসুফ, রশিদ) : ইন্টার কাশী – ১ (আলফ্রেড)

 

কলকাতা : ২৮ এপ্রিল ২০০৪, শেষবার জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর কেটে গিয়েছে ২২ বছর। এই ২২ বছরে কত পরিবর্তন দেখল দেশ। তখনও সরকারে বাজপেয়ীর সরকার। ৫০০, ১০০০ টাকার নোট তখনও চলছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের নাম কেউ শোনেনি। ফাইভ জি ইন্টারনেট কি, কেউ জানে না। বিরাট কোহলি নামক কোনও ক্রিকেটারকে গোটা দেশ কেন, দিল্লির সরোজ বিহারেও কেউ চেনে না। এমতাবস্থায় চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। তারপর কেটে গিয়েছে ২২ বছর। আর ট্রফি জোটেনি লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবে। অনেক বদল হয়েছে, কিন্তু একটাও জাতীয় ট্রফি আসেনি। আজ এল। আজ ২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গল কোনও জাতীয় লিগ জিতল। হারাল ইন্টার কাশীকে, যারা দিন কয়েক আগেই ০-০ ড্র করেছিল মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। কারণ এই প্রথমবার আইএসএলের ইতিহাসে একইসঙ্গে ৪টি ম্যাচ হচ্ছে। স্বাভাবিক, ইস্টবেঙ্গল শুরু থেকেই এগিয়ে নেমেছিল। যেখানে মোহনবাগানের দরকার ছিল ৮-০ জয়, লাল-হলুদের দরকার ছিল স্রেফ জয়। তাই পেলেন আনোয়াররা। বাগান ২-১ গোলে জয় পেল দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে। কিন্তু গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকার কারণে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল।

আজকের ম্যাচ ঘিরে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। ইস্টবেঙ্গল মাঠে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করেছিল ক্লাব। কার্ড সমস্যায় এই ম্যাচে খেলতে পারেননি ডার্বিতে গোল করা এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। তাই আক্রমণে ইউসুফ, মিগুয়েল, বিপনকে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন লাল হলুদ কোচ অস্কার। ১৫ মিনিটের মাথায় ডেভিডের পাস থেকে বলে পা ছুইঁয়ে গোল করে ইন্টার কাশীকে এগিয়ে দেন আলফ্রেড। কিছুক্ষন পরেই সহজ সুযোগ মিস করেন ইউসুফ। এরপর থেকেই আক্রমণের ঝড় শুরু করে ইন্টার কাশী কিন্তু সব আক্রমণ প্রতিহত হয় একমাত্র প্রভসিমরণ সিং গিলের কাছে। প্রথমার্ধের ঠিক আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন মহম্মদ রাকিপ।

৫০ মিনিটের মাথায় আনোয়ারের বাড়ানো পাস সোজা এসে পড়ে ইউসুফের পায়ে। দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সুন্দর গোল দিয়ে সমতা ফেরান ইউসুফ। মাঠে আসা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস তখন দেখে কে ? ৫৭ মিনিটে জয় গুপ্তা ও বিষ্ণুকে বসিয়ে নন্দকুমার ও চুংনুঙ্গাকে মাঠে আনেন অস্কার। এরপরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৭৩ মিনিটে বিপিন সিংয়ের ভাসানো বলে পা ছুইঁয়ে বল গোলে ঢুকিয়ে দিলেন রশিদ। তারপরেই ছুটলেন গ্যালারির দিকে। মাঠের প্রায় ৯ হাজার দর্শক তখন উত্তেজনায় ফুটছে। ফুটবলাররা বুঝতে পারছেন, আর মিনিট ১৫ পরেই সব অপমান, সব কান্নার জবাব দেওয়ার সময় এসে যাবে। এরপরেও লড়াই করেছিল দুই দল কিন্তু আর গোল পেল না ইন্টার কাশী। ২-১ ব্যবধানে জিতল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ৬ বছরে প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল।

বদল কি এভাবেই আসে? এভাবেই কি রোজ হারতে হারতে একদিন জিতে যাওয়া যায়? এভাবেই কি প্রত্যেকদিন হেরে বাড়ি ফেরার পরেও বেরোনো যায় এই আশায়, যে আজ জিতে ফিরব? আজ বহু সমর্থকদের চোখ থেকে আনন্দাশ্রু বেরিয়েছে। অনেক প্রবীণ সমর্থক চোখ দিয়ে বারিধারা ঝরিয়েছেন। যারা রোজ হারতে হারতে, অপমানিত হতে হতে, কাঁদতে কাঁদতে সুযোগ পেয়েছেন আজ ঘুরে দাঁড়ানোর। আজ কি শহরে অকাল হোলি খেললে কেউ রাগ করবে? মনে হয় না। আজ ইস্টবেঙ্গলের এই সাফল্য আবার কোনও এক হেরে যাওয়া মানুষকে আবার স্বপ্ন দেখাবে। দিন দুয়েক আগেই ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্সেনাল। আজ ২২ বছর পর জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। আজ কোথাও যেন মুছে গেল হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব। মুছবে নাই বা কেন? দুই দলের জার্সির রঙেও যে মারাত্মক মিল। দুই দলের জার্সিতেই যে লাল। আজ ইউসুফ, আনোয়ার, রশিদরা প্রমাণ করলেন, হারতে হারতে এভাবেই কামব্যাক করা যায়। একদিন ঠিক জিতে যাওয়া যায়। একদিন সব স্বপ্ন সত্যি হয়।  এভাবেও ফিরে আসা যায়। এভাবেই ফিরে আসা যায়।

Follow Us