ISL : জঘন্য ফুটবল খেলে ড্র, পয়েন্ট নষ্ট করেই চলেছে ইস্টবেঙ্গল!

ম্যাচের আগেই ইস্টবেঙ্গলের কর্তাদের নিয়ে তোপ দেগেছিলেন অস্কার ব্রুজো। সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন,"কিছু মানুষ দল খারাপ খেললেই দলের উন্নতি না চেয়ে অন্য ব্যাখ্যা দেন।" তাঁর বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছিলেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। ইতিমধ্যেই অস্কারকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে কটাক্ষের ঝড়।

ISL : জঘন্য ফুটবল খেলে ড্র, পয়েন্ট নষ্ট করেই চলেছে ইস্টবেঙ্গল!
Image Credit source: Facebook/East Bengal & Facebook/Kerala Blasters

| Edited By: Moumita Das

Mar 14, 2026 | 8:02 PM

 

ইস্টবেঙ্গল – ১ (ইজ্জেজারি) : কেরালা ব্লাস্টার্স – ১ (আজসাল)

কলকাতা : ফাইনাল হুইসল বাজতেই জার্সিতে মুখ ঢুকিয়ে মাটিতে মুখ রেখে শুয়ে পড়লেন ইউসুফ ইজ্জেজারি। মিগুয়েল, অস্কার ব্রুজোর প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থা। আইএসএলে আবার পয়েন্ট নষ্ট করল ইস্টবেঙ্গল। বারবার। এই নিয়ে টানা ৩ বার। টানা ৩ ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করে আইএসএলের লিগ শিরোপার দৌড়ে কয়েক লক্ষ যোজন পিছিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। ৫ ম্যাচ খেলে এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট ৮। কিন্তু যেভাবে প্রতি ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল খাচ্ছে, সেই একই জিনিস চলতে থাকলে আরও একটা বছর পড়শি ক্লাবের সাফল্যে ‘চোখ টাটিয়েই’ যেতে হবে লাল-হলুদ সমর্থকদের। বহুদিন আগে একটি বাংলা গান বেরিয়েছিল,’চাঁদ কেন আসে না আমার ঘরে।’ আজ সেই গানের কথা পাল্টে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা গাইতেই পারেন,’জয় কেন আসে না আমাদের ঘরে?’ এই যে ম্যাচের আগে এত কথা বললেন কোচ অস্কার, আজকের পর ইতিমধ্যেই তাঁকে বিদ্রুপ করা শুরু হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে ম্যাচ জেতার কথা ছিল ২-০, সেই ম্যাচ ১-১ ড্র করে খাদের কিনারায় লাল-হলুদ ব্রিগেড।

আজ বিকেলে যুবভারতীতে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও কেরালা ব্লাস্টার্স। এর আগে ৪ ম্যাচ খেলে ৪ ম্যাচেই হেরেছিল কেরালা। আজ তাই অনেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকই আশা করেছিলেন, বিনা বাধায় জিতবে দল। ইস্টবেঙ্গলের তুলনায় কেরালার দল খুব সাদামাটা। মাত্র ১ জন স্ট্রাইকার ও ২ জন বিদেশী নিয়ে নেমেছিল কেরালা। কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ আলাদা। শুরু থেকেই কেরালা ব্লাস্টার্সের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। ৯ মিনিটেই কপাল খুলে যায় শৌভিকদের। এডমুন্ড বক্সের ভিতরে বল পেয়ে সেটি পাস দেন ইজ্জেজারিকে। এমনই অবস্থায় তাঁকে ফাউল করা হয়। পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি রেফারি। গোলকিপারকে ডানদিকে ফেলে কিপারের বাঁদিকে নির্ভুল শট মেরে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন ইজ্জেজারি। ১৭ মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করেন সউল ক্রেসপো। ইজ্জেজারির বল গায়ে লেগে তাঁর কাছে গেলেও তিনি সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ। তাঁর বল উড়ে যায় বক্সের উপর দিয়ে। এরপর থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে কেরালা ব্লাস্টার্স। ৩৮ মিনিটে কেরালার দানিশের হেড একটুর জন্যে চলে যায় মাঠের বাইরে। কিছুক্ষন পরেই আবার কর্নার থেকে বলে মাথা ছোয়াঁ কালু ইউকে। তাঁর হেডও চলে যায় মাঠের বাইরে। প্রথম হাফে খুঁজেই পাওয়া যায়নি লাল হলুদকে। বরং, কেরালা ছিল যথেষ্ট প্রাণবন্ত। শুরুর ওই গোল খাবার মুহূর্ত ছাড়া আর কোনও অসুবিধেয় পড়েনি কেরালা ডিফেন্স। ইস্টবেঙ্গলকে দেখে একসময় মনে হচ্ছিল এই দলের যেন কোনও প্রাণ নেই। দ্বিতীয়ার্ধেও একগাদা সুযোগ পেয়েছিল দুই দল। কর্নার থেকে পাওয়া পাস গোলে মারার চেষ্টা করেছিলেন রশিদ কিন্তু একটুর জন্য ব্যর্থ হলেন। ওই গোল পেয়ে গেলে যে সেটি প্রতিযোগিতার সেরা গোল হিসেবে গণ্য হত, বলাই বাহুম্যাচের শেষের দিকে গা-ছাড়া ফুটবল খেলছিল অস্কার ব্রুজোর ছেলেরা। তার খেসারতই দিতে হল দলকে। ৯০+২ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বল বিনা বাধায় হেড করে ইস্টবেঙ্গল জালে জড়িয়ে দেন আজসাল। সামনে ৪ ডিফেন্ডার থাকা সত্ত্বেও কেন কেউ ফাঁকা ছেড়ে রাখলেন আজসালকে, এটারই উত্তর খুঁজবেন সমর্থকরা। ৬ মিনিট অতিরিক্ত পেয়েও পরের ৪ মিনিটে আর গোল শোধ করতে পারেনি লাল-হলুদ। ফলত, আজ কেরালার বিরুদ্ধেও না জিতেই মাঠ ছাড়তে হল অস্কার ব্রুজোর দলকে।

ম্যাচের আগেই ইস্টবেঙ্গলের কর্তাদের নিয়ে তোপ দেগেছিলেন অস্কার ব্রুজো। সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন,”কিছু মানুষ দল খারাপ খেললেই দলের উন্নতি না চেয়ে অন্য ব্যাখ্যা দেন।” তাঁর বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছিলেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। ইতিমধ্যেই অস্কারকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে কটাক্ষের ঝড়। শুরু থেকেই ব্যাক পাস আর স্কোয়ার পাশের জাল বুনে গেলেও ম্যাচ শেষে সেই ১ পয়েন্ট নিয়েই বেরোতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। এবার লাল হলুদের সতর্ক থাকা উচিত, কারণ বাকি আর ৮ ম্যাচ। বাকি ম্যাচগুলোতেও যদি এভাবে পয়েন্ট নষ্ট করা চলতে থাকে, লিগের শেষে হাতে পেন্সিল ছাড়া কিছুই থাকবে না।

Follow Us