
কলকাতা : ইরান নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না বিশ্বকাপে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের না খেলা নিয়ে তৈরী হচ্ছে অনিশ্চয়তা। এর আগেই মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ নিয়ে ইরান ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে অস্বীকার করে। রীতিমতো প্রেস কনফারেন্স করে তারা জানায়, আমেরিকা যেভাবে অত্যাচার করে চলেছে, সেই আমেরিকার মাটিতেই বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া মানে একপ্রকার মার্কিন শক্তির কাছে মাথানত করা। তাই ইরান চায়না আমেরিকার মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। আমেরিকার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইজরায়েলও। কিন্তু মাথানত করছে না ইরানও। ইতিমধ্যেই তাদের প্রধান মেহদী তাজ জানিয়েছেন, আমেরিকা নিরাপত্তা দিতে পারবে না ইরানকে। তবে দিনকয়েকের মধ্যেই আবার বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন সুর ইরানের।
মেহদী তাজ জানিয়েছেন,”যেহেতু আমেরিকা নিজে বলেছে তারা আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, তাই আমরা আমেরিকায় খেলতে যাচ্ছি না। আমরা ফিফার কাছে অনুরোধ করছি, ফিফা যেন আমাদের সব ম্যাচগুলি মেক্সিকোতে সরিয়ে দেয়।” ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই অবধি চলবে বিশ্বকাপ। আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় হুমকির সুরে জানিয়েছিলেন ইরান আমেরিকায় আসতে চাইলে আসুক কিন্তু তাদের সুরক্ষা দেওয়ার গ্যারান্টি তিনি দিতে পারছেন না। এরপরই বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে ইরান। তাই এখন মেক্সিকোতে তাদের ম্যাচ ফেলার অনুরোধ করেছে ইরানের বোর্ড। কিন্তু ফিফা ইরানের এই প্রস্তাব অস্বীকার করেছে। ফিফা জানিয়েছে,”২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা দলগুলির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। পূর্ব নির্ধারিত স্থানেই দেশগুলিকে খেলতে হবে।” ফিফা এই শেষমুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করতে চায় না কারণ এই মুহূর্তে ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে ফেললে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে ফিফাকে। কারণ, ম্যাচ টিকিট প্রায় সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে। স্পনসর ও টিভি সম্প্রচারকারী সংস্থার সঙ্গেও চুক্তি হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে ম্যাচের স্থান পরিবর্তন করে নিজেদেরই আর্থিক ক্ষতি চায় না ফিফা।
যদিও ফিফা এখনও ইরান বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। আগামী ৩০ এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার মিটিং আছে। সেখানেই হয়ত ইরান বিষয়ে মুখ খুলবে ফিফা। দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন,”আমেরিকা আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। ওদের আক্রমণে আমাদের দেশের শিশুরা নিরাপদ নয়। ওদের দেশে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাব না।” এই প্রথম সরকারি তরফে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কেউ মন্তব্য করেছিলেন। তবে মেক্সিকোয় খেলতে চেয়ে বিশ্বকাপ নাটকে এক নতুন মোড় জুড়ল ইরান।