
রাওয়ালপিন্ডি: দুর্দান্ত! অভাবনীয়! এ ছাড়া কিই বা বলা যাবে এই শ্রীলঙ্কা ইনিংসকে? সেই কত বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান সফলভাবে তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেদিন ১৩৮ রান করেও মাথা নিচু করে সাজঘরে ফিরতে হয়েছিল রিকি পন্টিংকে। একা ১৭৫ করে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের সরণি অনেকাংশে মসৃন করে দিয়েছিলেন হার্শেল গিবস। বা ধরুন, কয়েক সপ্তাহ আগের ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ানদের ৪০৫ রান সফলভাবে তাড়া করে জিতল ভারত। একাই ২২৩ করলেন শুভমন গিল। তারপর আজ আবার। এত রান তুলেও জিততে পারল না ইংল্যান্ড।
শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ৮ রান। প্রথম বলে এল ১, জোশ টং-এর দ্বিতীয় বল খেলতে গিয়ে বোল্ড হলেন ওয়াল্লালাগে (৮)। তখনও কেউ জানেনা, আদৌ শ্রীলঙ্কা রেকর্ড গড়তে পারবে কি না। বলতে বলতে আয়ারাম গয়ারাম হয়ে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফিরলেন ঈশান মালিঙ্গা (০)। ৩ বলে বাকি ৭ রান। এরপরেই শুরু ম্যাজিক। কভারের উপর থেকে ১ রান পেলেন অসিথা। বাকি তখনও ২ বলে ৬। পঞ্চম বলেই লং অফের উপর দিয়ে তুলে দিলেন জানিথ লিয়ানাগে। ৪৩০ রান তাড়া করতে নেমে এক বল বাকি থাকতেই ইতিহাস গড়ে দিল শ্রীলঙ্কা।
পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ট্রাই-সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিলেন কুশল মেন্ডিস ও হ্যারি ব্রুক। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪২৯ রান তোলে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক একাই করেন ২০২ রান। বল খেলেন ১১৬টি। তাঁর এই ইনিংস সুসজ্জিত ২১টি বাউন্ডারি ও ১০টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। ৫০ করেন ওপেনার টম ব্যান্টন। ৬৯ রান করেন জো রুট। ৩০ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন উইল জ্যাক্স। তখন হয়ত অনেক ব্রিটিশ সমর্থকই ধরে নিয়েছেন, এই ম্যাচ জিতেই গিয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু না, ম্যাজিকের যে তখনও ঢের বাকি।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ করা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কাও। ১৬ বলে ১৮ করে ফেরেন কামিন্দু মেন্ডিস। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস একটিও বল খেলতে না পেরেই দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। কিন্তু একটা সংখ্যা ১৫ বছরেও শ্রীলঙ্কার পিছু ছাড়ল না – ৯৭। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে এই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই ৯৭ রান করেছিলেন ভারতের গৌতম গম্ভীর। সেই ম্যাচ জিতেছিল ভারত। আজ এক নয়, শ্রীলঙ্কার দুই জন ব্যাটার ৯৭ রানে আউট হয়েছেন। প্রথমজন, আবিষ্কা ফার্নান্দো। দ্বিতীয়জন, দাসুন শনাকা। দুজনেই ৩ রানের জন্য মিস করলেন নিজ নিজ সেঞ্চুরি। তবুও জিতল শ্রীলঙ্কা।
এঁদের সেঞ্চুরি না করতে পারার দুঃখকে সরিয়ে দিলেন পবন রথনায়কে। ১০৬ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এল তাঁর ব্যাট থেকে। কিন্তু একসময় বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছিলেন জোশ টং। তাঁর উপরেই ভরসা করে তাঁকে শেষ ওভার বল করতে দিয়েছিলেন হ্যারি ব্রুক। ২ উইকেট পেলেনও টং। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ২৭ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থেকে শ্রীলঙ্কাকে জিতিয়ে দিলেন জানিথ লিয়ানাগে। এর ফলে ওয়ান ডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাস গড়ল শ্রীলঙ্কা।