
মোহনবাগান – ১ (কামিন্স) : ইস্টবেঙ্গল – ১ (এডমুন্ড)
কলকাতা : শেষ কবে এত উত্তেজক ডার্বি (Kolkata Derby) হয়েছে ? শেষ কবে এত টানটান ডার্বি হয়েছে ? শেষ কবে একটা ম্যাচ নিয়ে গোটা শহর দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে? ইদানিং প্রায় সব ম্যাচেই তো জিতে এসেছে মোহনবাগান (Mohunbagan Supergiant)। কিন্তু আজকের পর কোনও ভাবে যদি ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) আইএসএল (ISL 2026) চ্যাম্পিয়ন না হয়, তার সম্পূর্ণ ক্রেডিট দেওয়া উচিত বিপিন সিংকে (Bipin Singh)। ভদ্রলোক যেভাবে আজ একাই নিশ্চিত ৩ গোল করার সুযোগ যুবভারতীর মাঠে ফেলে এলেন, তার দায় তাঁকে নিতেই হবে। একই সঙ্গে সব নজর এখন ২১ তারিখের দিকে। সেদিন যে জিতবে, ট্রফি তার। তবে সে এখনও ৪ দিন বাকি। আজ কোথায় খামতি ছিল? কোন দলের পারফরম্যান্স ছিল একটু স্পেশাল?
আজকের এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণ শুরু করেছিল মোহনবাগান। প্রথম ১০ মিনিট বিপক্ষের বক্সেই ম্যাকলারেন, মনবীররা ঘুরঘুর করে গিয়েছেন গোলের লক্ষ্যে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের সৌভাগ্য বা বাগানের দুর্ভাগ্য, যে গোল আসেনি। ১৪ মিনিটের মাথায় দুরন্ত সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। অ্যান্টন সোৎজবার্গের জোরালো শট পোস্টে লাগে। ২২ মিনিটের মাথায় দুরন্ত সুযোগ পেয়েছিলেন বিপিন সিং। ডানদিকের উইং থেকে বল নিয়ে উঠে আসছিলেন তিনি। সামনে শুধু বাগান কিপার বিশাল ও অ্যান্টন। কিন্তু এত লেট করলেন বিপিন, ততক্ষনে চলে এসেছেন বাগানের ডিফেন্ডাররা। ইস্টবেঙ্গল প্রথমে একটু ডিফেন্সিভ খেললেও পরে দারুন কামব্যাক করেছিল। দুরন্ত ৩টি সুযোগ মিস করলেন পিভি বিষ্ণু, বিপিন ও অ্যান্টনরা।
৬৩ মিনিটের মাথায় নামলেন ইউসুফ ইজ্জেজারি ও এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। এরপর থেকেই আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়িয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু বিশাল কাইথের বিস্বস্ত হাত বারবার বাঁচিয়ে গিয়েছে মোহনবাগানকে। ৭২ মিনিটের মাথায় মাঠে নামলেন বাগানের দিমি পেত্ৰাতোস। ৮০ মিনিটে মাঠে নামলেন জেসন কামিন্স। ৮৫ মিনিটের মাথায় এল প্রথম গোল। ইউসুফের বাড়ানো বল পেলেন মিগুয়েল। তিনি পাস বাড়ান এডমুন্ডকে। এডমুন্ড একটু কাটিয়েই গোলকিপারকে প্রথম পোস্টে ফেলে বল গোলের দিকে মারতেই যা জালে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তে উৎসবে মেতে ওঠেন লাল হলুদের প্রায় ৩৩ হাজার সমর্থক। ২৭২ দিন পর ডার্বি জেতার আনন্দে কেঁদেও ফেলেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু তাঁদের এই উৎসব বেশিক্ষন স্থায়ী হল না। ৯০ মিনিটেই বাগানের হয়ে গোল শোধ করে দিলেন কামিন্স। দিমিত্রির কর্নার থেকে ভাসানো বল দুর্দান্ত ব্যাকহেডে জালে জড়িয়ে দেন বাগানের ‘কামডগ’। ৯০+৬ মিনিটে দারুন সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। কামিন্সের বাড়ানো বল ম্যাকলারেন গোলে মারলেও ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে এমি মার্টিনেজের স্টাইলে নিশ্চিত গোল বাঁচান লাল-হলুদ রক্ষক গিল। ফলে ১-১ ড্র হল এই ‘ফাইনাল’।
এই ড্রয়ের ফলে আইএসএলে এখনও সবুজ মেরুনকে হারাতে পারল না লাল হলুদ। লাল হলুদের তরফে যাঁর কথা বলতেই হয়, তিনি কেভিন সিবলে। গোটা ম্যাচে একার দমে বাগান আক্রমণ প্রতিহত করে গিয়েছেন কেভিন। এমনকি আনোয়ারদের ভুল সত্ত্বেও দলের উপর চাপ বাড়তে দেননি কেভিন। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়? কেন দলের সর্বশ্রেষ্ঠ অ্যাটাকার ইউসুফ নামবেন দ্বিতীয় হাফে? কেন তাঁকে শুরু থেকেই নামিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলা হবে না ? আইএসএলের পরে কোন ‘বড় ম্যাচ’ অপেক্ষা করছে লাল-হলুদের জন্য, যে সেই ম্যাচে ইউসুফকে নামানোর জন্য আজ ‘জল মাপলেন’ অস্কার? একই প্রশ্ন বাগানের ক্ষেত্রেও। কেন শুরু থেকে কামিন্স নেই? কেন সাহালকে দিয়ে ফাটকা খেলাচ্ছেন কোচ লোবেরা? আজও সাহাল যা যা সুযোগ পেয়েছিলেন, গোল করতে পারেননি স্রেফ নিজের ব্যর্থতায়।
আজকের এই ম্যাচ অনেক কারণে চর্চিত ছিল।ম্যাচ শুরুর আগে সদ্যপ্রয়াত টুটু বসুর স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করল দুই দল। আজ মাঠে ছিলেন কল্যাণ চৌবে, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকরা। বাগানের তরফে টুটু বসু ও ইস্টবেঙ্গলের তরফে পল্টু দাসের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে নিয়ে আসা হয়েছিল বিশাল বিশাল টিফো। মাঠে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার কেন উইলিয়ামসনও। আজকের ম্যাচ ড্র হওয়ার ফলে সব নজর এখন ২১ মে র দিকে। সেই দিন সল্টলেক স্টেডিয়ামে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে যখন নামবেন দিমি, কামিন্সরা, একই সময় কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে নামবেন ইউসুফ, বিপিনরা। দুই দলের সমর্থকরাই চাইবেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব যেন পয়েন্ট নষ্ট করে ও নিজের দল যেন জয় পায়। কারণ সেই দিনই যে আসল ‘ফাইনাল’। আজকেরটা তো স্রেফ ‘ডামি’ ছিল।