
কলকাতা : গড়াপেটা বললেই মনে পড়ে হ্যান্সি ক্রোনিয়ে, শ্রীসন্থ, আজহারউদ্দিনের ভারতীয় দলের নাম। কিন্তু কে ভেবেছিল, এবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে সলমন খান কেসের কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম? কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটেছে। এবং এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট দুনিয়ায়। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। বলা হয়েছে, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে নাকি গড়াপেটা হয়েছে। এরপরেই নড়েচড়ে বসেছে আইসিসি।
সম্প্রতি ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ নামে একটি ডকু সিরিজে প্রকাশ পেয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বলা হয়েছে, কানাডার জাতীয় দলে নাকি বরাবর প্রভাব খাটিয়েছে এই লরেন্সের গ্যাং। বলা হয়েছে, লরেন্স গ্যাং ম্যাচ ফিক্সিংও করেছে। তদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, এরা সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছে কানাডার ক্রিকেট বোর্ডের উপর। ইতিমধ্যেই লরেন্স গ্যাংকে নিষিদ্ধ করেছে কানাডা সরকার। তাদেরকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে কানাডা সরকার। ঘটনার সূত্রপাত এই বিশ্বকাপের সময়। বিশ্বকাপের আগেই নিকোলাস কর্টনকে সরিয়ে অধিনায়ক করা হয় দিলপ্রীত বাজওয়া-কে। ডকু সিরিজে দেখানো হয়েছে, বাজওয়া স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত ছিলেন। চেন্নাইতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ইচ্ছে করে ১৫ রান খেয়েছিলেন, এটা নাকি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। সিরিজে দাবি করা হয়েছে, কানাডা দলের বেশ কিছু ক্রিকেটারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথা না মানলে প্রাণনাশ করার হুমকি দেওয়া হয়। এই ভয়েই লরেন্সের গ্যাংয়ের কথা শোনে বোর্ডের কর্তারা, মত একজন বোর্ড প্রধানের।
ক্রিকেট কানাডার এক সদস্য বলেন,”বিশ্বকাপের সময় কিছু ব্যক্তি নিজেদের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের লোক পরিচয় দিয়ে ফোন করে। তারা বেশ কিছু ক্রিকেটারের নাম নিয়ে হুমকি দেয় যে যদি সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের দলে না নেওয়া হয়, তাহলে কর্তাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে।” সেই সদস্য আরও বলেন,”এই বিষয় আইসিসির আওতায় পরে। তারা যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে চলবে আমাদের বোর্ড।” তবে ক্রিকেটের মতো বিশ্বব্যাপী আলোচিত একটি খেলার মধ্যে গড়াপেটার ছায়া দেখেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অনেকে।