
কলকাতা: ৩৯ বছর পর ভারতের কোনও মহিলা কুস্তিগীর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন। এবার সোনাজয়ীর নাম মনীষা ভানওয়ালা। শুক্রবার কাজাখস্তানের আস্তানায় ৫৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে আমেরিকার অ্যাবিগেল এলিজাবেথ নেটেকে ৮-৬ ব্যবধানে হারান তিনি। ২৯ বছর বয়সী মনীষার বাড়ি হরিয়ানার রোহতকে। দেশের হয়ে বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় হলেন তিনি। তাঁর আগে ২০১০ সালে সোনা জিতেছিলেন সুশীল কুমার। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে অনেক কষ্টের গল্প। একদিকে যেমন আছে বাবাকে হারানোর যন্ত্রণার কথা, তেমনই আছে তাঁর স্বপ্ন পূরণের লড়াই।
অতীতের সংগ্রাম-
২০২২ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে মঙ্গোলিয়া যাচ্ছিলেন মনীষা। সেই সময় খবর আসে, তাঁর বাবা সুরেশ আর নেই। ছোট থেকে তাঁর বাবাই তাঁকে কুস্তি খেলতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। সব সময় মেয়ের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশন তাঁকে প্রতিযোগিতা ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি।
এবার আস্তানার ফাইনালেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হন তিনি। প্রথম পর্বের শেষেই ১-৬ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ ৩ মিনিটে ৭ পয়েন্ট তুলে ম্যাচে ফিরে আসেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮-৬ ব্যবধানে জিতে সোনা যেতেন মনীষা। রোহতকের ছোটু রাম স্টেডিয়ামে তাঁর প্রশিক্ষণ বহুদিন ধরে ফলো করেছেন কোচ মনদীপ সাইনি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “বাবার মৃত্যুর পর ও (মনীষা) খুব ভেঙে পড়েছিল। ছোট থেকে ওর বাবাই ওর পাশে ছিলেন। বাবাকে হারানোর কষ্ট প্রচুর। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও ও খেলেছে এবং প্রতিযোগিতায় পদক জিতেছে।”
২৯ বছর বয়সে অনেক তরুণ কুস্তিগীরের সঙ্গে লড়াই করছেন মনীষা। কুস্তিতে শরীরের শক্তি, ফিটনেস এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই বয়স নিয়েও অনেক আলোচনা হয়। তবে মনদীপ বলেন, বয়স কখনও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। একাধিক অসুবিধে, প্রতিকূলতা পেরিয়েও অবশেষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতেন তিনি।