
কলকাতা : এক বা দুই নয়, পাক্কা ২৪ বছর। প্রায় ২ যুগ টেনিস খেলা থেকে ব্যান হয়ে গেলেন একজন ফুটবলার। আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ম্যাচ গড়াপেটা ও অন্য খেলোয়াড়কে দুর্নীতির চক্রে যুক্ত করার জন্য এই খেলোয়াড়কে ২৪ বছরের জন্য নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অসহযোগিতা, গড়াপেটার কারণেই তাঁকে ব্যান করা হয়েছে।
নির্বাসিত খেলোয়াড়ের নাম স্টেফান মিলিসেভিচ। তিনি সার্বিয়ার ২৯ বছর বয়সী একজন টেনিস প্লেয়ার। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ৬টি ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ৫টি ম্যাচে নিজেই খেলেছেন স্টেফান। এছাড়া আরও ৬টি ম্যাচ গড়াপেটার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই সময়ের মধ্যে একাধিক পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়কে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কে জয়েনও করতে চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এর ফলেই তাঁকে ২৪ বছর ব্যান করা হয়েছে। ২০৫০ সালের অক্টোবর অবধি টেনিসের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতিযোগিতায় তিনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এর পাশাপাশি তাঁকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। মিলিসেভিচের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর সময় একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল আইটিআইএ। সংস্থার দাবি, মোট ৭ বার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি ও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও জবাব দেননি। তদন্তে সহযোগিতা না করার বিষয়টিকে শাস্তির কঠোরতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তির ঘটনা টেনিসে ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলির মধ্যে অন্যতম। এর আগে ফরাসি টেনিস খেলোয়াড় কোয়েন্তাঁ ফোলিওকেও ২০ বছরের জন্য নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তে তাঁকে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতে জানা যায়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১১টি ম্যাচ গড়াপেটা করেছিলেন তিনি। তবে শুনানির পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ৩০টি অভিযোগের মধ্যে ২৭টি বহাল রাখা হয়। তাঁর পর আবার এই ঘটনা প্রমাণ করছে, খেলাটির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর টেনিস কর্তৃপক্ষ।