Sanjita Oraon : আবার খবরে নকশালবাড়ি, সোনা আনলেন সঞ্জিতা!

Naxalbari : সঞ্জিতার বাবা বিজয় ওরাওঁ পেশায় দিনমজুর। দিন এনেই দিন খাওয়া হয় তাঁদের। মা রিতা ওরাওঁ গৃহবধূ। প্রতিদিন দারিদ্রের সঙ্গে লড়ে নিজের স্থান অর্জন করেছেন সঞ্জিতা। হাতিঘিষা হাইস্কুলের শিক্ষক সুজয় ঘোষ রায় প্রথম সুযোগ দেন সঞ্জিতাকে। ফলে, সঞ্জিতার সাফল্যের কৃতিত্ব তাঁরও প্রাপ্য।

Sanjita Oraon : আবার খবরে নকশালবাড়ি, সোনা আনলেন সঞ্জিতা!
জাতীয় পর্যায়ে ১০ হাজার মিটার দৌড়ে স্বর্ণ পদক জিতলেন সঞ্জিতা। Image Credit source: Facebook

| Edited By: Moumita Das

Apr 07, 2026 | 7:07 PM

কলকাতা : নকশালবাড়ি বললেই আপনার মাথায় কি ভেসে আসে ? বছর কয়েক আগে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা সিনেমা ‘ড্রাকুলা স্যার’ এর মূল প্রেক্ষাপট ? উঁহু, তাহলে ? ১৯৬৭ সালের বিপ্লবের জন্মভূমি ? কিন্তু এবার কারণ একটু আলাদা। গোটা দেশের খেলার মানচিত্রে নকশালবাড়ির নাম ফুটিয়ে তুললেন দিনমজুরের মেয়ে সঞ্জিতা ওরাওঁ। জাতীয় পর্যায়ে ১০ হাজার মিটার দৌড়ে স্বর্ণ পদক জিতলেন সঞ্জিতা। ছত্তিশগড়ে অনুষ্ঠিত ‘খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস’-এ এই অনন্য কৃতিত্ব গড়লেন সঞ্জিতা।

এই প্রথম কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য আয়োজন করেছে। ৩০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৩০০০-এরও বেশি ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। এর আগেই ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলার দল। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। মোট ৭ ধরণের খেলার বিভাগ ছিল। সেখানেই ১০ হাজার মিটার দৌড়ে সোনার পদক জিতলেন সঞ্জিতা। ১০ হাজার মিটার দৌড়োতে তিনি সময় নিয়েছেন ৪০ মিনিট ২১.৮ সেকেন্ড। এই পদক জিতে স্বভাবতই খুশি তাঁর পরিবার।

সঞ্জিতার বাবা বিজয় ওরাওঁ পেশায় দিনমজুর। দিন এনেই দিন খাওয়া হয় তাঁদের। মা রিতা ওরাওঁ গৃহবধূ। প্রতিদিন দারিদ্রের সঙ্গে লড়ে নিজের স্থান অর্জন করেছেন সঞ্জিতা। হাতিঘিষা হাইস্কুলের শিক্ষক সুজয় ঘোষ রায় প্রথম সুযোগ দেন সঞ্জিতাকে। ফলে, সঞ্জিতার সাফল্যের কৃতিত্ব তাঁরও প্রাপ্য। শিলিগুড়ি থেকে ২৫ কিমি দূরে হাতিঘিষায় অস্থায়ী মাঠে দিনে দুই বার অনুশীলন করতেন সঞ্জিতা। বর্ষায় চা বাগানে অনুশীলন করতেন তিনি। তাঁর বাড়ির এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত কোনও ট্র্যাক না থাকায় অনেক পরিশ্রম করে লড়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন সঞ্জিতা। এবার দেশের ক্রীড়াবিদদের সামনে নিজের পরিচিতি স্পষ্ট করলেন সঞ্জিতা।

এই সাফল্যের পর সঞ্জিতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন,”নকশালবাড়ির আদিবাসী চা-শ্রমিক পরিবারের মেয়ে সঞ্জিতা ওরাওঁকে দশ হাজার মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জয়ের জন্য জানাই অভিনন্দন ও অনেক অনেক ভালবাসা। ওর এই সাফল্য আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ওর এই জয় বাংলার হাজার হাজার উঠতি ছেলেমেয়েকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। ওর সব স্বপ্ন পূরণ হোক, এই কামনা করি। ওর সমস্ত প্রয়োজনে আমি ওর পাশে থাকব।”

Follow Us