
কলকাতা : ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস। ১১ বছর পর কলকাতায় এলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, কলকাতা – এই ৪ শহরে আয়োজন করা হয়েছিল এই গোট ট্যুর (Goat Tour) । তবে বাকি ৩ শহরে নির্বিঘ্নে এই ইভেন্ট হলেও কলকাতার ইভেন্ট ঘিরে ছিল একরাশ লজ্জা। মেসিকে দেখতেই পাননি যুবভারতীতে (Saltlake Yuvabharati Stadium) আসা শয়ে শয়ে সমর্থক। তাঁরা টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দেখতে এলেও দেখা পাননি মেসির। গোটা ইভেন্টেই মেসিকে ঘিরে ছিলেন পূর্বতন ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস (Arup Biswas) ও পুলিশমন্ত্রী, ইউটিউবার, মিডিয়ার লোকেরা। এরপরেই ঘটে বিশৃঙ্খলা। প্রচুর সমর্থক ক্ষিপ্ত হয়ে ঢুকে পড়েন যুবভারতীতে। রীতিমতো মাঠ তছনছ করে আমজনতা। ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার করা হয় শতদ্রুকে। অবশেষে দিনকয়েক আগে ছাড়া পেয়ে একের পর এক বোমা ফাটাতে শুরু করেছেন এই বিখ্যাত ক্রীড়া সংগঠক।
একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলে মুখ খুলে শতদ্রু বলেছেন,“এই ইভেন্টটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দ্বারা স্বীকৃত একটি জেড+ (Z+) ক্যাটাগরি ইভেন্ট ছিল। কিন্তু মাঠে উপস্থিত একজন নিজের ব্যক্তিগত শক্তি প্রদর্শন করে পুরো ইভেন্টের ক্ষতি করেছে। তারা রীতিমতো এই ইভেন্টকে হাইজ্যাক করেছে। তারা নিজেরা, নিজেদের পরিবারের লোকজনকে ডেকে ডেকে মেসির সঙ্গে মাঠেই ছবি তুলিয়েছে এবং এরফলে বঞ্চিত হয়েছেন টিকিট কেটে আসা দর্শকরা।”
কী করে হল এই হাইজ্যাকিং? এই বিষয়েই শতদ্রু বলেন,“আমি পুলিশকে বলছিলাম, এই অতিরিক্ত লোকজনকে সরান কিন্তু তাঁরা সরাননি। এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে খবর করা হয়েছিল ও এরপরেই আমি গ্রেফতার হই। আসলে, আমাকে বলির পাঁঠা করা হয়েছে। আমি প্রভাবশালী নই, তাই আমি জেলে গিয়েছিলাম কারও ব্যর্থতায়।”
এই বিশৃঙ্খলার জেরে নাকি বিরক্ত হয়ে যান মেসি নিজেও। তাঁকে জড়িয়ে ধরে ছবি তোলারও নিন্দা করেছেন শতদ্রু। তাঁর কথায়,“লাতিন আমেরিকার রীতিতে অপরিচিত কারও কোমরে বা কাঁধে হাত দেওয়া একপ্রকার ‘ব্যাড টাচ’। মেসির সিকিউরিটি আমাকে ক্রমাগত প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন,”ওঁর মেসিকে টাচ করার সাহস কীকরে হয়?” এটি যে আসলে কাকে উদ্দেশ্য করে বলা, তা পাঠকমাত্রই আন্দাজ করতে পারবেন। এমনকি ছবি তুলতে গিয়ে কেউ একজন রদ্রিগো ডি’পলকে আঁচড়েও দিয়েছিলেন, এমন কথাও বললেন শতদ্রু।
এই মেসির ঘটনার পরেই একপ্রকার উত্তাল হয়ে গিয়েছিল কলকাতা ময়দান। সোশ্যাল মিডিয়াতে নিন্দায় সরব হয়েছিলেন প্রত্যেক ক্রীড়াপ্রেমীরা। শতদ্রুর সমালোচনা শুরু হয় গোটা শহর জুড়ে। তবে এখন যেভাবে শতদ্রু মুখ খুলেছেন, তাঁকে যে আর ভুল বোঝা হবে না, এমনটা আশা করাই যায়।