
খেলার প্রতি আবেগ। এর জন্য এতটা পথ সাইকেলে! শুধু খেলার জন্যই নয়, বিশেষ একজনের জন্য। অলিম্পিকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে যিনি ভারতের অন্ধকার দূরে সরিয়ে সোনা ঝলমলে রোদ এনেছিলেন। নীরজ চোপড়া। অলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে সোনা জিতেছেন জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া। এ বার প্যারিসেও ভারতের অন্যতম পদকের দাবিদার নীরজ। শুধু অলিম্পিকের আক্ষেপ মিটিয়েছেন, তা নয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, ডায়মন্ড লিগ সব আক্ষেপই মিটিয়েছেন। নীরজের সৌজন্যে প্যারিস থেকে একটা সোনা আসবে, এই প্রত্যাশায় ভারতীয় ক্রীড়া প্রেমীরা। আর তাঁকে সমর্থন করতে প্যারিস পৌঁছে গিয়েছেন একজন। এতে নতুনত্ব কী? ভারতের প্রচুর সমর্থকই তো রয়েছেন প্যারিসে? তাঁদের কেউ সাইকেল চালিয়ে প্যারিস গিয়েছেন কি?
অলিম্পিকের শেষ দিকটায় ট্র্যাক অ্যান্ড ইভেন্ট থাকে। ৮ অগস্ট নীরজের ইভেন্ট। ঝুঁকি নিতে চাননি ফয়াজ আশরফ আলি। কেরল থেকে প্যারিস। ফ্লাইটে তো আর যাবেন না। তাই অনেক আগেই প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। ২ বছর, ২২০০০ কিমি। সাইকেল চালিয়ে অবশেষে কালিকট থেকে প্যারিসে নীরজ চোপড়া ভক্ত আশরফ। এটাও সম্ভব! ২০২২ সালের ১৫ অগস্ট যাত্রা শুরু করেছিলেন আশরফ। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল, শান্তি-একতার বার্তা দেওয়া। কেরলের কালিকট থেকে সাইকেলে লন্ডন পাড়ি দিয়েছিলেন। সাইকেল, সঙ্গে নানা সামগ্রী। প্রায় ৫০কেজি। নতুন করে আরও একটা লক্ষ্য স্থির করেন। নীরজ চোপড়াকে সাপোর্ট করতে প্যারিস যাবেন। তার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল বুদাপেস্টে অ্যাথলেটিক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সময় নীরজের সঙ্গে দেখা হওয়া।
সব মিলিয়ে ৩০টি দেশ পেরিয়ে অবশেষে প্যারিসে। বুদাপেস্টে নীরজের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল? প্যারিসে পৌঁছে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় আশরফ বলেন, ‘কয়েক মিনিটের জন্য নীরজ এবং ভারতীয় অ্যাথলিটদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। নীরজ আমাকে বলে-আপনি লন্ডন যাচ্ছেন, অলিম্পিকের সময় প্যারিসেও তো যেতে পারেন।’
আশরফ আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, সত্যিই তো দারুণ সুযোগ। নীরজকে অলিম্পিকে নামতে দেখব। এখানে এসে পিটি উষা (ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার সভাপতি) ম্যামের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাঁকে অনুরোধ করেছি, যাতে নীরজকে সমর্থন করার সুযোগ পাই। আমরা সকলে মিলেই নীরজের জন্য গলা ফাটাব। সেই দিনটার (৮ অগস্ট) মুখিয়ে রয়েছি।’