
আমেরিকা : এত বছর হয়ে গেল, এখনও বিশ্বকাপ (Fifa World Cup 2026) ট্রফির মুখ দেখতে পারল না পর্তুগাল (Portugal)। সেরা পারফরম্যান্স ? বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করা। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল পর্তুগাল। ২০০৬ সালে চতুর্থ হয়েছিল পর্তুগাল। আবার এই ২০০৬ সালেই প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমেছিলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। তার পর থেকে কেটে গিয়েছে অনেক বসন্ত, রোনাল্ডো রয়েছেন রোনাল্ডোতেই। এই বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষবার নামছেন এই ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা, তবে ইতিমধ্যেই প্রথম ম্যাচ খেলে নিয়েছেন রোনাল্ডো। সেই ম্যাচে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পরেই ট্রোলের শিকার তিনি, কারণ সকালের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি (Lionel Messi)।
জাতীয় দলে রোনাল্ডোর অভিষেক হয়েছিল ২০০৩ সালের ২০ অগাস্ট, কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে। ছোট্ট শহর সাভেসে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে উপস্থিত দর্শক ছিলেন মাত্র ৮ হাজার। এমনকি মাঠের অবস্থা এত খারাপ ছিল, যে ঘাসের সৌন্দর্য বাড়াতে ঘাসে রং করা হয়েছিল। এই নিয়ে ষষ্ঠ বারের জন্য বিশ্বমঞ্চে নামছেন রোনাল্ডো। মেসি, গিলের্মো ওচোয়া সঙ্গে এই কৃতিত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন রোনাল্ডো। তবে কাতার বিশ্বকাপের পর দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, পর্তুগাল যদি বিশ্বকাপ জিততে চায়, তাহলে রোনাল্ডোকে ছাড়াই বিশ্বকাপ জেতার ক্ষমতা আছে পর্তুগালের। এমনকি গতকালের কঙ্গো ম্যাচের পর রোনাল্ডোকে অপসারণ করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
দেশের প্রাক্তন ফুটবল তারকা আন্তোনিও সিমোয়েসের মতে, রোনাল্ডো দলের সাফল্যের থেকে নিজের খেলাকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর এই মন্তব্যের ফলেই বিতর্ক দেশজুড়ে। আবার দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজের মতে,“গত ৩১ ম্যাচে রোনাল্ডো দেশের জার্সিতে মোট ২৫ গোল করেছেন। তাই তিনি বর্তমান পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছেন পর্তুগাল দলে”, মত কোচের। তবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠছে অনেক প্রশ্ন। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করেন, রোনাল্ডো এখন আর গতিশীল নন ও বিশ্বকাপ জিততে হলে পর্তুগালের তরুণদের উপর ভরসা করা বাধ্যতামূলক।
পরিসংখ্যান বলছে, রোনাল্ডো ছাড়াও পর্তুগাল সফল। সাম্প্রতিক সময়ে লুক্সেমবার্গের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ৯-০ ও আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে ৯-১ জয়ের ম্যাতে তিনি ছিলেন না। ফলে অনেকেই বলছেন, রোনাল্ডো ছাড়া পর্তুগাল বেশ ভাল খেলে। তবে এখনও বলা যায়, রোনাল্ডো আজও, এই বয়সেও পোর্তুগিজ ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু। এবার তাঁর সামনে বিশ্বকাপ জেতার শেষ সুযোগ রয়েছে। এই শেষ সুযোগ কি কাজে লাগাতে পারবেন সিআর সেভেন? যদি পারেন, তাহলে একদিকে যেমন গোট বিতর্কের অবসান হবে, তেমনই তাঁর কেরিয়ারের সমাপ্তি হবে এক রূপকথার মতোও।