
কলম্বো: গতকালের খেলা যখন শেষ হল, তখনও শ্রীলঙ্কার হাতে ছিল ৪ উইকেট। এই ৪ উইকেট ফেলে দিলেই জয়ের দিকে অনেকটাই অগ্রসর হত টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু কপাল খারাপ থাকলে বোধহয় অনেক অসম্ভবই সম্ভব হয়। তাই ২য় টেস্টের পঞ্চম দিনে ৪টে উইকেটও ফেলতে পারল না ভারতীয় দল। ফলে, অসম্ভবকে সম্ভব করে ৫ম দিনে টেস্ট ড্র করে ফেলল শ্রীলঙ্কা। আবার সেঞ্চুরি করলেন সোনাল দিনুশা। ১৩৩ রানে অপরাজিত রইলেন সোনাল। এর ফলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২-০ সিরিজ জিততে ব্যর্থ হল ভারত। ১-০ জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল শুভমন গিলদের।
২২৯/৬ থাকা অবস্থায় ৫ম দিনের খেলা শুরু হয়। এই আজকেও লড়লেন সোনাল। টেলএন্ডার ব্যাটারদের নিয়ে সিরাজ, প্রসিদ্ধদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেলেন তিনি। ২৬৪ বল খেলে ১৩৩ রান করলেন এই শ্রীলঙ্কান ব্যাটার। গলে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সোনাল। কলোম্বোতেও প্রথম ইনিংসে গোটা দল ব্যর্থ হলেও উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন একমাত্র তিনিই। খেলেছিলেন ১৬২ বলে ১০৩ রানের ইনিংস। এরপর আবার দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর শতরানেই হারা টেস্ট বাঁচাল শ্রীলঙ্কা। তার পাশাপাশি যুদ্ধ করেছেন কেশরা নুয়ন্থাও। ১৫০ বলে ৪৬ রান করেছেন তিনি এবং লাহিরু কুমারা করেছেন ১২ রান। খেলেছেন ৯০ বল। তাঁদের প্রচেষ্টাতেই ৪২৯/৯ রানে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
গোটা দিনে নিষ্প্রাণ বোলিং করেছেন ভারতীয় বোলাররা। ৩৭ ওভার বল করে ৯৮ রান দিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মাত্র ১টি উইকেট। প্রায় ৩৯ ওভার বল করে ৯৪ রান দিয়েছেন জাদেজা। পেয়েছেন ৩টি উইকেট। ৪১ ওভার বল করে ১২১ রান দিয়েছেন মানব সুতার। তাঁর ঝুলিতে এসেছে ৩টি উইকেট। দিনের শেষে বল করতে বাধ্য হয়েছেন শুভমন গিল, যশস্বী জয়সোয়াল ও ধ্রুব জুরেলও। তাঁরা কোনও উইকেট পাননি কিন্তু এরফলে এক প্রকার প্রকাশ পেল ভারতীয় বোলিংয়ের কঙ্কালসার চেহারাটা।
এই ম্যাচ ড্রয়ের ফলে বিপাকে পড়ল ভারত। ড্রয়ের ফলে ভারতের PCT (Points Percentage) ৫৩.৩৩% থেকে কমে হয়েছে ৫১.৫২%। ৫ম স্থানেই রয়ে গেল ভারত। তবে এরপর ভারতের বাকি আর ৭ ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২টি ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি টেস্ট খেলবে ভারত। ৭টির মধ্যে অন্তত ৬টি টেস্ট না জিতলে ভারতের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা প্রায় কমে আসবে। কিন্তু তবুও, প্রায় জেতা ম্যাচ যেভাবে ভারত ড্র করল, তাতে শ্রীলঙ্কার লড়াইকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই।