Tahura Khatun: দেওয়া হয়েছিল ভুল জার্সি, সেই জার্সি কেটেই সোনা জিতলেন বাঙালি ক্রীড়াবিদ তহুরা খাতুন

Bengali Athletics: তহুরার এই পোস্ট, অভিযোগ যেন বঙ্গ ক্রীড়ামহলের একটা নগ্ন বাস্তব। যে বাস্তবে ক্রীড়াবিদরা পছন্দের জার্সি পান না, যেখানে অভিযোগ করলে সহানুভূতির বদলে কমেন্ট বক্সে অকথ্য ভাষায় ট্রোল করা হয়, এমনকি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রোষানলেও পড়তে হয়। কিন্তু এই বাঙালি ক্রীড়াবিদ ওই কাটা জার্সি পরেই সোনা জিতলেন।

Tahura Khatun: দেওয়া হয়েছিল ভুল জার্সি, সেই জার্সি কেটেই সোনা জিতলেন বাঙালি ক্রীড়াবিদ তহুরা খাতুন
তহুরা খাতুনImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: Moumita Das

Oct 26, 2026 | 6:10 PM

 – সোমনাথ ব্যানার্জী

কলকাতা: চেন্নাইয়ে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে গিয়েছেন ভাঙড়ের প্রতিভাবান অ্যাথলিট তহুরা খাতুন। কিন্তু সেখানেই চূড়ান্ত অব্যবস্থার শিকার তাঁরা। অ্যাথলিটদের জন্য নেই স্লিভলেস জার্সি। বাধ্য হয়ে কাঁচি দিয়ে নিজেরাই জার্সি কেটেছেন তহুরারা। এই ঘটনা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান তিনি। এরপরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সবথেকে চমকপ্রদ ভিডিওর কমেন্ট বক্স। সমর্থন তো দূর, তাঁকে ছোট করাই যেন উদ্দেশ্য বহু নেটিজেনদের। এই ভিডিও প্রকাশ পেতেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছে বঙ্গ ক্রীড়ামহল। কেন ক্রীড়াবিদদের জন্য জার্সির এত গোলমাল?

কী অভিযোগ তহুরার?

সোশাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও পোস্ট করে তহুরা বলেন, “আমরা জুনিয়র ন্যাশনাল খেলতে এসেছি। আমাদের গেঞ্জি দেওয়া হয়েছে। এই গেঞ্জির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কিন্তু নিয়ম এমন, এই গেঞ্জি পরেই আমাদের দৌড়োতে হবে। ছেলেদের স্লিভলেস গেঞ্জি দেওয়া হলেও আমাদের বেলায় হাফহাতা গেঞ্জি দেওয়া হয়েছে। এই বুদ্ধি কার মাথা থেকে বেরিয়েছে? বগলের কাছে যদি গেঞ্জি আটকেই যায়, তাহলে দৌড়োব কী করে? মানুষের ন্যূনতম কমনসেন্স থাকা উচিৎ। কাপড়ের মান নিয়ে আমি কোনও কথা বলব না। তবে জার্সির মান এমন? টাকা না থাকলে আমাদের থেকে টাকা নিয়ে জার্সি বানাবেন। যারা ডিস্ট্রিক্ট খেলে, তারা হয়ত এর থেকে ভাল মানের জার্সি পায়। আমরা খেলতে এসেছি না দর্জির কাজ করতে এসেছি?” ক্ষোভে ফেটে পড়েন তহুরা। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর এক সতীর্থ কাঁচি দিয়ে জার্সি কাটছেন। এই ভিডিও পোস্ট করার পরেই শুরু হয় চাপানউতোর।

বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সচিব জহর দাস সম্পূর্ণ দায় বেঙ্গলি অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের ঘাড়ে ঠেলে TV9 বাংলাকে জানালেন, “ঘটনাটি ফেসবুকে দেখলাম। খুব লজ্জাজনক বিষয়। অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন সবাইকে জার্সি দেয়। বাকি সব খেলার জার্সি তাদের অ্যাসোসিয়েশন দেয়। যদি এটা হয়ে থাকে, ঠিক হয়নি। ওরা খেলতে নামার আগে আমরা জানতাম না এই বিষয়ে। কিন্তু আমরা ফেসবুকের ভিডিওর ভিত্তিতে কাউকেই কোনও দোষারোপ করতে পারি না। যদি মেয়েটি অভিযোগ করে, তাহলে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি। কিন্তু এই বিষয়ে আমরা জানিই না। ওরা খেলতে গিয়েছে, এই বিষয়ে আমাদেরও কোনও জ্ঞান নেই। আমরা যদি জানতাম, তাহলে আমরা কিছু বলতে পারতাম।”

রাজ্য অ্যাথলেটিক্স সংস্থার সচিব কমল মৈত্র বলেন, “এই বিষয়ে ও নিজেই ভাল বলতে পারবে। ও তো বলেছে টাকা পয়সা দেবে। এই মুহূর্তে এই বিষয়ে আমি কোনও কথা বলব না। ওরও ভুল আছে। ও কীকরে সাই-এর ক্রীড়াবিদ হওয়া সত্ত্বেও ফেসবুকে এই বিষয়ে বলে? ও তখন কেন আমাদের জানায়নি? কিন্তু এটা জানিয়ে ও আরও ভুল করেছে। আমাদের ভুল হয়েছে আমরা মানছি। এই বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছি। ও আমাকে বলতে পারত এই বিষয়ে কিন্তু যে ভাষা ও ব্যবহার করেছে, সেগুলো উচিৎ নয়। আমি এই বিষয়ে আরও উচ্চপদস্থ কর্তার সঙ্গে কথা বলব। আমাদের ভুল হয়েছে।”

তবে এরপর আবার একটি ভিডিও বানান তহুরা। তিনি সেই ভিডিওতে আগের কথার জন্য ক্ষমা চাইলেও বারবার একই প্রশ্ন করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ন্যাশনাল কম্পিটিশনে যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করছে যে কেন আমরা সেলাই দেওয়া জার্সি পরছি। এটা আমাদের অপমান, আমাদের রাজ্যের অপমান। এই জার্সি দেওয়ার আগে কেন একবার ভাবল না কর্তৃপক্ষ? এর আগের ইয়ুথ ন্যাশনাল টুর্নামেন্টেও একই ভুল হয়েছে। তাও রাগের মাথায় যদি কিছু ভুল বলে থাকি, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।”

তহুরার এই পোস্ট, অভিযোগ যেন বঙ্গ ক্রীড়ামহলের একটা নগ্ন বাস্তব। যে বাস্তবে ক্রীড়াবিদরা পছন্দের জার্সি পান না, যেখানে অভিযোগ করলে সহানুভূতির বদলে কমেন্ট বক্সে অকথ্য ভাষায় ট্রোল করা হয়, এমনকি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রোষানলেও পড়তে হয়। কিন্তু এই স্লিভ কাটা জার্সি পরেই সোনা জিতলেন বাঙালি ক্রীড়াবিদ । সোনার পদকে হয়ত তাঁর কষ্টের সাময়িক উপশম হল। কিন্তু বঙ্গ ক্রীড়ামহলের যে লজ্জাজনক দিকটা আজ প্রকাশ্যে এল, এর লজ্জা কমবে তো? আশা করতে ক্ষতি কী?

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us