
কলকাতা: গতকাল একটি ভিডিও তোলপাড় করে দিয়েছিল বঙ্গীয় ক্রীড়ামহলকে। চেন্নাইয়ে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে গিয়েছেন ভাঙড়ের প্রতিভাবান অ্যাথলিট তহুরা খাতুনরা। কিন্তু সেখানেই চূড়ান্ত অব্যবস্থার শিকার তাঁরা। অ্যাথলিটদের জন্য নেই স্লিভলেস জার্সি। বাধ্য হয়ে কাঁচি দিয়ে নিজেরাই জার্সি কেটেছেন তাঁরা। এই কাটা জার্সি সেলাই করে পরেই মিটে নেমে সোনা জেতেন তহুরা।
যদিও সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তহুরা। কেন জার্সি নিয়ে এমন অব্যবস্থা, প্রশ্ন করতে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি তাঁর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, একজন সতীর্থ কাঁচি দিয়ে জার্সি কাটছেন। এই ভিডিও পোস্ট করার পরেই শুরু হয় চাপানউতোর। সূত্রের খবর, তহুরার কাঁচি দিয়ে জার্সি কাটার ভিডিও ভাল মতো নেয়নি রাজ্য অ্যাথলেটিক্স সংস্থা। এমনকি সর্বভারতীয় অ্যাথলেটিক্স সংস্থাও বিষয়টি ভাল চোখে দেখেনি। রাজ্য অ্যাথলেটিক্স সংস্থার কাছে ঘটনার বিবরণ জানতে চায় রাজ্যের ক্রীড়া দফতর।
তহুরাকে শোকজ করার কথা ভাবে রাজ্য সংস্থা। সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় অ্যাথলেটিক্স সংস্থার পাশাপাশি সাইকেও বিষয়টি মৌখিক ভাবে জানায় রাজ্য সংস্থা। তাদের কর্তারা চেন্নাইতে উপস্থিত থাকলেও, কেন তাদের জার্সি বিভ্রাটের কথা না জানিয়ে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেন তহুরা? এই বিষয়টিই মেনে নিতে পারেনি রাজ্য সংস্থা। এরপরই দেখা গেল তহুরার নতুন ভিডিও পোস্ট।
সমাজমাধ্যমে আজ, মঙ্গলবার সুর নরম করে আবার একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সেখানে বলেন, “আমি সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি গেঞ্জি নিয়ে যে ভিডিওটি বানিয়েছি, তাতে আমি কিছু কথা ভুল বলেছি, যা বলা উচিৎ হয়নি। মাথা গরম করে আমি বলে ফেলেছি। আমার ওভাবে কথা বলতে চাইনি। আমি অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ক্ষমা চাইছি।”
যদিও গতকাল টিভি৯ বাংলার তরফ থেকে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সচিব জহর দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যদি এটা হয়ে থাকে, ঠিক হয়নি। ওরা খেলতে নামার আগে আমরা জানতাম না এই বিষয়ে। কিন্তু আমরা ফেসবুকের ভিডিওর ভিত্তিতে কাউকেই কোনও দোষারোপ করতে পারি না। যদি মেয়েটি অভিযোগ করে, তাহলে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি।”
রাজ্য অ্যাথলেটিক্স সংস্থার সচিব কমল মৈত্র বলেন, “ও কীকরে সাই-এর ক্রীড়াবিদ হওয়া সত্ত্বেও ফেসবুকে এই বিষয়ে বলে? ও তখন কেন আমাদের জানায়নি? কিন্তু এটা জানিয়ে ও আরও ভুল করেছে। আমাদের ভুল হয়েছে আমরা মানছি। এই বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছি। ও আমাকে বলতে পারত এই বিষয়ে কিন্তু যে ভাষা ও ব্যবহার করেছে, সেগুলো উচিৎ নয়।” এরপরেই একদিনের মধ্যে সুর নরম করলেন তহুরা। তাহলে কি মুখ খুলেই বিপদে পড়তে হল তাঁকে? প্রশ্ন উঠছে ক্রীড়ামহলে।