
কলকাতা: দীর্ঘ ৩ বছর পর নিউজিল্যান্ডে সিরিজ খেলবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। সেই সফরে পাঁচটি ওয়ানডে, তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। প্রাথমিক সূচিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা বেশি থাকার কথা থাকলেও, ‘বাণিজ্যিক স্বার্থে’ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়েছে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ কমিয়ে তিনটিতে নামানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির জনপ্রিয়তা। দু’জনেই বর্তমানে শুধু ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সক্রিয়। তাই নিউজিল্যান্ডের দর্শকরা যাতে তাঁদের আরও বেশি করে মাঠে দেখতে পান, সেই ভাবনা থেকেই নাকি এই সিদ্ধান্ত। সূত্রের খবর, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এই প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভারতীয় বোর্ড তাতে সম্মতি জানিয়েছে।
২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর রোহিত ও কোহলি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে টেস্ট ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন দু’জনেই । এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটমহলে এক বিরাট চমক তৈরি করেছিল। ফলে এখন তাঁরা কেবলমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটেই দেশের জার্সিতে খেলছেন। তবে সীমিত ফরম্যাটে তাঁদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে, এখনও বড় মঞ্চে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাঁদের আছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ সিরিজে রোহিত ও কোহলি দু’জনেই দুরন্ত ফর্মে ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজেও তাঁদের ব্যাটে সেই ঝলক দেখা যায়। সমালোচকদের একাংশ মনে করছিলেন, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাঁরা খেলবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই সংশয় অনেকটাই কাটিয়ে দিয়েছেন এই জুটি।
ওয়ানডে ফরম্যাট নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছিল, তখন রোহিত-কোহলির উপস্থিতি নতুন করে আগ্রহ জাগিয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। তাঁদের ব্যাটিংই নাকি ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দর্শক টানার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। নিউজিল্যান্ড সফরের আগে দু’জনকেই দেখা যাবে আইপিএল ২০২৬-এ। কোহলি খেলবেন রয়্য়াল চ্য়ালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে, আর রোহিত নামবেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে। সব মিলিয়ে ২০২৬ মরশুমে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একাধিক বড় আকর্ষণ।