
কলকাতা: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে এই ম্যাচ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, বরং ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। অনেকের মতে, এই ম্যাচের পরই সূর্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ২০২১ থেকে ২০২৩, এই ২ বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সূর্যকুমার যাদব বরাবরই ভালো ব্যাটার ছিলেন। এই সময়ে তিনি ৪৫.৫৫ গড়ে ২,১৪১ রান করেন এবং তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭১.৫৫। ১০০০ রানের বেশি করা ব্যাটারদের মধ্যে কেউই ১৬০ স্ট্রাইক রেট ছুঁতে পারেননি। সেখানে সূর্যকুমার ছিলেন অনেকটাই এগিয়ে। মাঠ, প্রতিপক্ষ বা পিচ কোনো কিছুই যেন তাঁকে আটকাতে পারত না। আইপিএলেও ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে অনেকেই তাঁকে ভারতের সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটার বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলেও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পারথে তাঁর ইনিংস প্রমাণ করেছিল, তিনি কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, ভারতের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে সূর্যের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে পতন দেখা যাচ্ছে। দলের ফলাফল ভালো হলেও, ২০২৪ বিশ্বকাপের পর ভারত ৪৮টি ম্যাচ জিতেছে এবং হেরেছে মাত্র ৭টি। সূর্যকুমারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আশানুরূপ নয়। তবে গত ১৫ মাসে তাঁর গড় মাত্র ২৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৭ এর আশেপাশে। যে ব্যাটার এক সময় সহজেই সেঞ্চুরি করতেন, এখন তাঁর কাছে হাফসেঞ্চুরিও বিরল হয়ে উঠেছে। চলতি বিশ্বকাপেও তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়। মুম্বইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি ইনিংস ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি প্রায় নিষ্প্রভ। সেই ইনিংস বাদ দিলে ৭ ইনিংসে তাঁর মোট রান মাত্র ১৫৮ এবং স্ট্রাইক রেট নেমে আসে প্রায় ১২৪এ। বিশ্লেষকদের মতে, সূর্যকুমারের ব্যাটিংয়ে আগের মতো দ্রুত শুরু দেখা যাচ্ছে না। স্পিনারদের কৌশলও তাঁকে সমস্যায় ফেলছে। গত দুই বছর ধরে এই সমস্যা থাকলেও বড় কোনো উন্নতি দেখা যায়নি সূর্যকুমারের।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ভারতের টি–টোয়েন্টি দলে তাঁর জায়গা কতদিন? অনেকেই মনে করেন, তিনি অধিনায়ক না হলে হয়তো আগেই বাদ পড়তেন। অন্যদিকে শ্রেয়স আইয়ার, রজত পাটিদার, যশস্বী জয়সওয়াল বা রিয়ান পরাগের মতো ক্রিকেটাররা সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। ২০২৮ সালের পরবর্তী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় সূর্যকুমারের বয়স হবে ৩৮। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখনই নতুন পরিকল্পনা শুরু করা উচিত বলে মনে করছেন অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই ভারত–নিউজিল্যান্ড ফাইনালটি সূর্যকুমারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ম্যাচের ফল যাই হোক, ৮ মার্চের পরই হয়তো তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি কেরিয়ার নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের সময় চলে আসবে।