
নয়াদিল্লি: একটা সময় ছিল, যখন জাতীয় দলের বাইরে রাখা যেত না যুজবেন্দ্র চাহালকে। এমনকি আইপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকাতেও ফার্স্ট বয় তিনিই। ১৮৮ ম্যাচে ২৩৩ উইকেট নিয়ে তিনি পিছনে ফেলেছেন জসপ্রীত বুমরা, সুনীল নারিন, লাসিথ মালিঙ্গার মতো তারকাদের। কিন্তু পরিসংখ্যান, ক্রিকেটের বাইরেও একটা জীবন আছে তাঁর। জীবনের সেই দিক খুবই অন্ধকার। সেই দিক ঘিরেই চর্চা হয় সোশাল মিডিয়া জুড়ে।
সম্প্রতি জনপ্রিয় কমেন্টেটর আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে এসেছিলেন চাহাল। সেখানেই নিজের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে কথা বললেন এই লেগস্পিনার। মদ্যপান, বিবাহবিচ্ছেদ, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন – সব নিয়েই অকপট তিনি। আকাশ চোপড়ার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত সমস্যার ওই অসময়ে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও পরিবার ছিল।” এরপরেই মদ্যপান নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কাউন্টি ক্রিকেটের গত মরসুম শেষ হওয়ার পরেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই আমি একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হই ও সেখানে ২৬ দিন থাকি। এখন আমি জানি পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হয়।”
স্ত্রী ধনশ্রীর সঙ্গে বিয়ের পর একসময় ১৮ মাস আলাদা থাকার পর তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই চাহালের সঙ্গে জনপ্রিয় রেডিও জকি মাহবাশের সম্পর্কে জড়ানোর গুঞ্জন শোনা যায়। সেই নিয়ে চাহালের মত, “যখন আপনি একজন বিখ্যাত লোক হবেন তখন আপনার জীবনে যা কিছু ঘটবে, সব নিয়েই গুঞ্জন শোনা যাবে। আমার খুব খারাপ লাগত, কারণ এই কারণে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। এর প্রভাব আমার ক্রিকেটের কেরিয়ারে পড়েছিল। ম্যাচে আমি নিজের ১০০% দিতে পারতাম না।”
চাহাল জানান, এই কারণে অবসাদগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ফলে নিয়মিত প্যানিক অ্যাটাক হত তাঁর। চাহাল বলেন,“প্যানিক অ্যাটাক হওয়ার সময় আমার হার্টবিট বেড়ে যেত। মুখ কুঁচকে যেত। এমনকি কথাও বলতে পারতাম না। ঠোঁট শক্ত হয়ে একদিকে বেঁকে যেত। ফলে অন্যরাও বুঝতে পারত আমার সঙ্গে কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে। এরপর ওষুধ নেওয়া শুরু করি।”
এরপরেই আকাশ চাহালকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে। তিনি বলেন, “এসবের পরেই আমি সিদ্ধান্ত নিই, সব নতুন করে শুরু করব। পাঞ্জাব কিংস যখন আমার উপর ১৮ কোটি টাকা খরচ করেছিল, তখন মনে হয়েছিল, ওদের এই ভরসার দাম আমাকে রাখতে হবে। কেকেআরের বিরুদ্ধে ১১১ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে অবশেষে আমি সেই পুরোনো স্পার্ক খুঁজে পাই।”
একসময় মাঠে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ত্রাস হয়ে ওঠা চাহালের এই স্বীকারোক্তি মনে করিয়ে দিল একটা প্রবাদবাক্য। বহু বছর আগে কলকাতা ময়দানের একজন কর্তা এই কথা বলেছিলেন। কথাটা কী? কী আবার, “ময়দানে কোনও কিছুই স্ট্যাটিক নয়।” তবে সেই বিতর্ক ঝেড়ে ফেলে আবার যে তিনি চেষ্টা করছেন, সেটাই তাঁর জীবনের সবথেকে বড় জয়।