
কলকাতা : এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত চ্যাটিং অ্যাপ হিসেবে হোয়াটস্অ্যাপের জুড়ি মেলা ভার। শুধু চ্যাট করা নয়, স্ট্যাটাস আপডেট, উন্নতমানের ভিডিও ও অডিও কল, বড় সাইজের ডকুমেন্ট পাঠানো – সব কাজেই হোয়াটস্অ্যাপকে ব্যবহার করেন মানুষ। কিন্তু স্মার্ট ফোনের যুগে হোয়াটস্অ্যাপ ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই চাপের। তবে সব কিছুরই ভাল ও খারাপ দিক রয়েছে। অনেক সময় বাবা-মায়ের ফোন ব্যবহার করে তাঁদের সন্তান- সন্ততিরা। সেখানেই হোয়াটস্অ্যাপের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তার সময় নানা বিতর্কিত বা গোপন বিষয়ে কথা বলে বাচ্চারা। এবার হোয়াটস্অ্যাপ তাদের নতুন ভার্সন আপডেটে নিয়ে এসেছে এক অভাবনীয় ফিচার। ১৩ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য প্যারেন্ট কন্ট্রোল্ড (Parent Controlled) অ্যাকাউন্ট তৈরী করতে পারবেন বাবা-মায়েরা।
নিজেদের একটি পোস্টে হোয়াটস্অ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,”বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর এই নতুন অভিভাবকদের দ্বারা পরিচালিত Kid অ্যাকাউন্ট তৈরী করেছি। এর ফলে বাবা মায়েরা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার পাশাপাশি মেসেজ ও কলিং হিস্ট্রি দেখতে পারবেন।” এছাড়া এই গোপন ফিচারে বাচ্চাদের সর্বদা নজরে রাখতে পারবেন বাবা-মায়েরা। এই ফিচারে কোনোভাবেই লুকিয়ে চ্যাট করা যাবে না। এই ধরণের অ্যাকাউন্টে থাকছে না স্ট্যাটাস, এআই, dissapearing message -এর মতো সুবিধে। এতে থাকবে না ‘ভিউ ওয়ান্স’-এর অপশনও। ফলে, ছেলে-মেয়ের সব মেসেজই দেখতে পাবেন অভিভাবকরা। এই কিড অ্যাকাউন্ট বানানোর প্রক্রিয়াও জানিয়ে দিয়েছে হোয়াটস্অ্যাপ। প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে হোয়াটস্অ্যাপ ইন্সটল করে ফোন নম্বর ও সন্তানের বয়স দিয়ে নতুন একাউন্ট ওপেন করুন। এরপর ফোনে একটি কিউআর কোড জেনারেট হবে। কিউআরটি আপনার ফোনে স্ক্যান করলেই দুটি অ্যাকাউন্ট কানেক্ট হয়ে যাবে। অ্যাকাউন্ট দুটি লিঙ্ক হয়ে গেলেই অভিভাবকরা যাবতীয় পরিবর্তন করতে পারবেন। পিন পরিবর্তন, প্রাইভেসি সেটিংস বদল-সহ অনেক পরিবর্তন করা যাবে।
হোয়াটস্অ্যাপের সেফটি রুল অনুযায়ী সন্তানের বয়স ১৩ পেরোলেই আবার সাধারণ অ্যাকাউন্ট বানানোর আবেদন করতে পারবেন অভিভাবকরা। হোয়াটস্অ্যাপ থেকেই তখন সাধারণ অ্যাকাউন্টে পরিবর্তনের জন্য নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। ১২ মাসের মধ্যেই পরিবর্তন করা যাবে অ্যাকাউন্টের প্রকারভেদ, জানিয়েছে এই বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত চ্যাট সংস্থা। এর ফলে শিশুদের মনে খারাপ প্রভাব কম পড়বে বলেই ধারণা তাঁদের।