Iran Israel US War: ইরান যুদ্ধে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল শেষ এফ-১৪ টমক্যাট
ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ে তৈরি মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৪ টমক্যাট এবার সম্পূর্ণ ইতিহাস। পৃথিবীতে আর একটি টমক্যাটও কার্যকর অবস্থায় নেই বলে জানানো হয়েছে সাম্প্রতিক রিপোর্টে। সত্তরের দশকে মার্কিন সংস্থা গ্রুম্যান অ্যারোস্পেস কর্পোরেশন এই যুদ্ধবিমান তৈরি করে। সংস্থার রীতি অনুযায়ী, তাদের তৈরি বিমানের নামের সঙ্গে ‘ক্যাট’ শব্দ যুক্ত থাকত, যেমন ওয়াইল্ডক্যাট, হেলক্যাট, টাইগারক্যাট, বেয়ারক্যাট। সেই ধারাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর দুই কিংবদন্তি অ্যাডমিরাল, যাঁদের নামই ছিল ‘টম’, তাঁদের সম্মান জানিয়ে এই বিমানের নাম রাখা হয় ‘টমক্যাট’। যদিও অনেকের ধারণা, নামটি জনপ্রিয় কার্টুন ‘টম অ্যান্ড জেরি’র টম থেকে নেওয়া, যা সঠিক নয়।
ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ে তৈরি মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৪ টমক্যাট এবার সম্পূর্ণ ইতিহাস। পৃথিবীতে আর একটি টমক্যাটও কার্যকর অবস্থায় নেই বলে জানানো হয়েছে সাম্প্রতিক রিপোর্টে। সত্তরের দশকে মার্কিন সংস্থা গ্রুম্যান অ্যারোস্পেস কর্পোরেশন এই যুদ্ধবিমান তৈরি করে। সংস্থার রীতি অনুযায়ী, তাদের তৈরি বিমানের নামের সঙ্গে ‘ক্যাট’ শব্দ যুক্ত থাকত, যেমন ওয়াইল্ডক্যাট, হেলক্যাট, টাইগারক্যাট, বেয়ারক্যাট। সেই ধারাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর দুই কিংবদন্তি অ্যাডমিরাল, যাঁদের নামই ছিল ‘টম’, তাঁদের সম্মান জানিয়ে এই বিমানের নাম রাখা হয় ‘টমক্যাট’। যদিও অনেকের ধারণা, নামটি জনপ্রিয় কার্টুন ‘টম অ্যান্ড জেরি’র টম থেকে নেওয়া, যা সঠিক নয়।
ভিয়েতনাম, লিবিয়া, যুগোস্লাভিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাক-সহ একাধিক যুদ্ধে এই বিমান ব্যবহার করেছে মার্কিন সেনা। ২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের ডেকে শেষবারের মতো নামে টমক্যাট। এরপর প্রযুক্তি যাতে অন্য দেশের হাতে না যায়, সেই আশঙ্কায় আমেরিকা তাদের টমক্যাট বহর ভেঙে ফেলে। বর্তমানে ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামে একটি টমক্যাট স্মারক হিসেবে রাখা আছে।
তবে আমেরিকার পর এই বিমানের একমাত্র ব্যবহারকারী দেশ ছিল ইরান। ১৯৭৩ সালে শাহ রেজা পহলভির আমলে, যখন ইরান ছিল আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তখন সোভিয়েত মিগ যুদ্ধবিমানের মোকাবিলায় ইরানকে ৮০টি টমক্যাট বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ইসলামিক বিপ্লবের পর আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের বিমানবাহিনীতে টমক্যাট ব্যবহৃত হতে থাকে। আটের দশকে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরানের টমক্যাট বহর উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। ইরানের দাবি, এই যুদ্ধে টমক্যাট একাই ইরাকের প্রায় ১৬০টি মিগ ও মিরাজ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে। এর বিপরীতে ইরানের ক্ষতি হয় ১৬টি টমক্যাট।
সময়ের সঙ্গে সংখ্যা কমতে কমতে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ইরানের হাতে কার্যকর অবস্থায় ছিল প্রায় দশটি টমক্যাট। এগুলি রাখা ছিল ইসফাহানের একটি বিমানঘাঁটিতে, যা একটি পরমাণু কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। চলতি মাসের ৮ মার্চ ইসফাহানে মার্কিন হামলায় অধিকাংশ টমক্যাট ধ্বংস হয়ে যায়। মাত্র একটি বিমান উড়ানযোগ্য অবস্থায় ছিল। ১৭ মার্চ সেই শেষ টমক্যাট নিয়ে আকাশে উড়েছিলেন ইরানি বায়ুসেনার এক পাইলট। তবে পরবর্তীতে মার্কিন-ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মার্কিন গণমাধ্যম ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ওয়ার্ড ক্যারল টমক্যাটের অবসানকে ‘শেষ শ্রদ্ধা’ জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বর্তমানে পৃথিবীতে কার্যকর অবস্থায় একটি এফ-১৪ টমক্যাটও আর নেই। যে যুদ্ধবিমান তৈরি করেছিল আমেরিকা, তাকে দীর্ঘদিন ধরে সচল রেখেছিল ইরান। শেষ পর্যন্ত সেই ইতিহাসের ইতি টানল আমেরিকারই সামরিক পদক্ষেপ।

