AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Africa: পিঁপড়ের দাম ১০ কোটি! কী কাজে আসে এরা জানেন?

Africa: পিঁপড়ের দাম ১০ কোটি! কী কাজে আসে এরা জানেন?

TV9 Bangla Digital

| Edited By: Purvi Ghosh

Updated on: Jun 11, 2026 | 9:38 PM

Share

নাইরোবি বিমানবন্দরে ২,২০০টি রানি পিঁপড়ে পাচারের চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে কেনিয়ায়। এক চিনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিরিঞ্জ, টেস্টটিউব ও ক্যাপসুলের মধ্যে করে পাচার করা হচ্ছিল এই পিঁপড়েগুলি। আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে উদ্ধার হওয়া পিঁপড়েগুলির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।

নাইরোবি বিমানবন্দরে ২,২০০টি রানি পিঁপড়ে পাচারের চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে কেনিয়ায়। এক চিনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিরিঞ্জ, টেস্টটিউব ও ক্যাপসুলের মধ্যে করে পাচার করা হচ্ছিল এই পিঁপড়েগুলি। আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে উদ্ধার হওয়া পিঁপড়েগুলির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।

পাচার হওয়া পিঁপড়েগুলি ‘জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার অ্যান্ট’ প্রজাতির। আফ্রিকার সাভানা তৃণভূমির পরিবেশ রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খাবারের জন্য ঘাসের বীজ সংগ্রহ করতে গিয়ে এরা মাটিতে বীজ ছড়িয়ে দেয়, ফলে নতুন ঘাস জন্মায়। পাশাপাশি মাটি খুঁড়ে বায়ু চলাচলের পথ তৈরি করে, যা তৃণভূমির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পিঁপড়েদের কারণেই আফ্রিকার সাভানা গ্রাসল্যান্ডের বাস্তুতন্ত্র টিকে রয়েছে। সেই পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল মাসাইমারা ও সেরেঙ্গেটির মতো বিখ্যাত অঞ্চলও।

চোরাকারবারিরা মূলত রানি পিঁপড়েদেরই লক্ষ্য করছে। একটি অ্যান্ট-কলোনিতে সাধারণত একটি রানি পিঁপড়ে এবং প্রায় ৫০ হাজার কর্মী পিঁপড়ে থাকে। রানি মারা গেলে বা সরিয়ে নেওয়া হলে গোটা কলোনিই ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে সাভানা অঞ্চলে একের পর এক পিঁপড়ের উপনিবেশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার অ্যান্টের রানি পিঁপড়ে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, যেখানে কর্মী পিঁপড়েদের আয়ু মাত্র ১ থেকে ২ বছর। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বিশেষ কিছু প্রোটিন এবং কোষীয় প্রক্রিয়া তাদের দীর্ঘজীবনের কারণ হতে পারে, যদিও বিষয়টি এখনও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।

রানি পিঁপড়েরা জীবনে একবারই উড়ে মিলনে অংশ নেয়। সেই সময় একাধিক পুরুষ পিঁপড়ের সঙ্গে তাদের মিলন ঘটে। পরে তারা মাটিতে নেমে ডানা ঝরিয়ে ফেলে এবং সারাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শুক্রাণু শরীরে সঞ্চয় করে রাখে। এরপর ২৫-৩০ বছর ধরে ডিম পাড়তে থাকে। কর্মী পিঁপড়েরাই রানির সমস্ত দেখভালের দায়িত্ব নেয়। পাচারকারীরা বিশেষ কৌশলে এই রানিদের ধরে। সাভানা অঞ্চলে বড় সাদা পর্দা টাঙিয়ে তাতে তীব্র আলো ফেলা হয়। রাতের বেলায় মিলনের জন্য উড়তে থাকা রানি পিঁপড়েরা সেই আলোয় আকৃষ্ট হয়ে পর্দার ওপর বসে। তখনই তাদের ধরে ফেলা হয়। এছাড়া অভিজ্ঞ পাচারকারীরা সরাসরি ঢিবি থেকেও রানি পিঁপড়ে শনাক্ত করে বের করে আনতে পারে। আকারে তারা কর্মী পিঁপড়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ বড়।

তদন্তে জানা গিয়েছে, পাচার হওয়া পিঁপড়েগুলির প্রধান গন্তব্য চিন, ইউরোপ এবং ফার ইস্টের বিভিন্ন দেশ। সেখানে শখের বশে পিঁপড়ে পালনের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ কাচের তৈরি ‘ফর্মিকারিয়াম’-এ মাটি, খাদ্য এবং একটি রানি পিঁপড়ের সঙ্গে কয়েকটি কর্মী পিঁপড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই সেখানে পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ট-কলোনি তৈরি হয়ে যায়। কাচের বাইরে থেকে তাদের সুড়ঙ্গ তৈরি ও বাসা গড়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাই এই শখের মূল আকর্ষণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকারে বড়, উজ্জ্বল লাল-কালো রঙের এবং দ্রুত কলোনি গড়ে তোলার ক্ষমতার কারণে জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার অ্যান্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সেই চাহিদাকেই কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পিঁপড়ে চোরাচালান চক্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দর ও সীমান্তে নজরদারি আরও কড়া করেছে কেনিয়া সরকার।

Follow Us