AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Dawa Sherpa, Everest: শ্রাদ্ধের আয়োজনের মধ্যেই হামাগুড়ি দিয়ে ফিরলেন 'মৃত' শেরপা

Dawa Sherpa, Everest: শ্রাদ্ধের আয়োজনের মধ্যেই হামাগুড়ি দিয়ে ফিরলেন ‘মৃত’ শেরপা

TV9 Bangla Digital

| Edited By: Purvi Ghosh

Updated on: Jun 24, 2026 | 6:46 PM

Share

খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মিটার উচ্চতায় তিনি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। কাঠমান্ডুর হাসপাতালে শুয়ে দাওয়া জানিয়েছেন, পরের ৬ দিন তিনি শুধু বরফ চিবিয়ে বেঁচেছিলেন। এতটাই বরফ খেতে হয়েছিল যে তাঁর দাঁত নড়ে যায়। অক্সিজেন ছাড়াই শরীরের শেষ শক্তি ও মানসিক জোরে তিনি নামতে শুরু করেন। কিন্তু নামার সময় একটি খাদে পড়ে যান। সেই খাদেই প্রায় আড়াই দিন আটকে ছিলেন তিনি। তখন ধরে নিয়েছিলেন সেখানেই তাঁর শেষ...

সারা পৃথিবী ধরে নিয়েছিল তিনি আর বেঁচে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে গিয়েছিল শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পোস্ট। পরিবারও প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিল। এমনকি স্ত্রী ও মেয়ে তাঁর শ্রাদ্ধের আয়োজন পর্যন্ত করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ই এল অবিশ্বাস্য খবর, তিনি জীবিত।

৫২ বছরের দাওয়া শেরপা ৬ দিন একা লড়াই করে, আহত ও অসুস্থ অবস্থায়, প্রায় বিনা খাবার, জল ও অক্সিজেনেই এভারেস্টের ডেথ জোন থেকে বেস ক্যাম্পে ফিরে এসেছেন। পর্বতারোহণের জগতে এই ঘটনাকে এখন ‘মিরাকল সারভাইভাল’ বলা হচ্ছে। এভারেস্টের প্রায় ৮ হাজার মিটার উচ্চতা থেকে চূড়া পর্যন্ত অংশকে বলা হয় ‘ডেথ জোন’। এই এলাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ সমতলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বাতাস এতটাই পাতলা যে সেখানে হেলিকপ্টার উড়তে পারে না। ফলে অসুস্থ হয়ে পড়লে কাউকে উদ্ধার করে নামিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

এই উচ্চতায় কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া ঘুমিয়ে পড়লে আর ঘুম ভাঙার সম্ভাবনা খুব কম। অক্সিজেনের অভাবে শরীরের কোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। হজমক্ষমতা কমে যায়, শরীরে নতুন শক্তি তৈরি হয় না। দীর্ঘক্ষণ থাকলে মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে জল জমতে পারে, তৈরি হতে পারে হ্যালুসিনেশন এবং হাঁটার ক্ষমতাও হারিয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে থাকে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। শরীরের খোলা অংশ মুহূর্তে ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত হতে পারে।

দাওয়া শেরপার কথায়, তিনি এক পোলিশ পর্বতারোহীকে নিয়ে সামিট ক্যাম্প থেকে চূড়ার দিকে উঠছিলেন। কিন্তু আচমকা আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় সামিট করা সম্ভব হয়নি। ফেরার পথে ক্যাম্প ফোরের কাছে তাঁদের অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েন দাওয়া। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মিটার উচ্চতায় তিনি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। কাঠমান্ডুর হাসপাতালে শুয়ে দাওয়া জানিয়েছেন, পরের ৬ দিন তিনি শুধু বরফ চিবিয়ে বেঁচেছিলেন। এতটাই বরফ খেতে হয়েছিল যে তাঁর দাঁত নড়ে যায়। অক্সিজেন ছাড়াই শরীরের শেষ শক্তি ও মানসিক জোরে তিনি নামতে শুরু করেন। কিন্তু নামার সময় একটি খাদে পড়ে যান। সেই খাদেই প্রায় আড়াই দিন আটকে ছিলেন তিনি। তখন ধরে নিয়েছিলেন সেখানেই তাঁর শেষ। কিন্তু আচমকা তুষারধস শুরু হয়। খাদটি বরফে ভরে গেলে সেই বরফের স্তূপ ব্যবহার করে তিনি কোনওভাবে উপরে উঠে আসেন।

বেস ক্যাম্পের কাছে খুম্বু আইসফলে পরিষ্কারের কাজ করছিল নেপাল সরকারের কর্মীরা। তখন দূর থেকে তাঁরা দেখেন একজন হামাগুড়ি দিয়ে নীচে নামছেন। কাছে গিয়ে তাঁরা চিনতে পারেন দাওয়া শেরপাকে। তখন তাঁর শরীর প্রায় অসাড় হয়ে গিয়েছিল। দ্রুত তাঁকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর শরীরে ডিহাইড্রেশন, একাধিক আঘাত এবং ফ্রস্টবাইটের সমস্যা থাকলেও আপাতত জীবনের ঝুঁকি নেই। দাওয়া নিজের স্ত্রী ও মেয়েকে চিনতে পারছেন এবং অল্প অল্প কথা বলতেও শুরু করেছেন।

পর্বতারোহীদের একাংশের মতে, বহু বছরের অভিজ্ঞতা এবং পাহাড় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলে এভাবে খাবার, জল ও অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্টের ডেথ জোন থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। দাওয়া শেরপার এই প্রত্যাবর্তনকে তাই অনেকেই অলৌকিক বলেই মনে করছেন।

Follow Us