AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Slavery-Era Law Repeal in France: ফ্রান্সে আইনের বই থেকে মুছে গেল দাসপ্রথার বিধান

Slavery-Era Law Repeal in France: ফ্রান্সে আইনের বই থেকে মুছে গেল দাসপ্রথার বিধান

TV9 Bangla Digital

| Edited By: Purvi Ghosh

Updated on: Jun 06, 2026 | 9:56 PM

Share

ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে বাতিল করা হল ৩৪০ বছর পুরনো ‘ব্ল্যাক কোড’ বা কোড নোয়ার। দাসপ্রথা বাস্তবে ১৮৪৮ সালেই বিলুপ্ত হলেও, দাসপ্রথা সংক্রান্ত এই আইন এতদিন পর্যন্ত ফরাসি আইনের বইয়ে বহাল ছিল। গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ২৫৪-০ ভোটে আইনটি বাতিল হয়। ফ্রান্সে দাসপ্রথার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৭৮৯ সালে শুরু হওয়া ফরাসি বিপ্লবের নানা পর্যায় শেষ হয় ১৭৯৯ সালে নেপোলিয়নের ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে। নেপোলিয়নের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরে, ১৮৪৮ সালে ফ্রান্সে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু সেই সময়েও দাসপ্রথা নিয়ন্ত্রণকারী ‘ব্ল্যাক কোড’-এর বিধানগুলি আইনের বই থেকে সরানো হয়নি।

ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে বাতিল করা হল ৩৪০ বছর পুরনো ‘ব্ল্যাক কোড’ বা কোড নোয়ার। দাসপ্রথা বাস্তবে ১৮৪৮ সালেই বিলুপ্ত হলেও, দাসপ্রথা সংক্রান্ত এই আইন এতদিন পর্যন্ত ফরাসি আইনের বইয়ে বহাল ছিল। গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ২৫৪-০ ভোটে আইনটি বাতিল হয়। ফ্রান্সে দাসপ্রথার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৭৮৯ সালে শুরু হওয়া ফরাসি বিপ্লবের নানা পর্যায় শেষ হয় ১৭৯৯ সালে নেপোলিয়নের ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে। নেপোলিয়নের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরে, ১৮৪৮ সালে ফ্রান্সে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু সেই সময়েও দাসপ্রথা নিয়ন্ত্রণকারী ‘ব্ল্যাক কোড’-এর বিধানগুলি আইনের বই থেকে সরানো হয়নি।

১৬৮৫ সালে বুরবোঁ রাজবংশের রাজা Louis XIV এই আইন চালু করেছিলেন। প্রায় ৬০টি ধারার এই আইনে দাসদের মানুষ হিসেবে নয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মতো বিবেচনা করা হতো। দাসমালিকদের মারধর, বিক্রি, ধর্ষণ এমনকি হত্যা করার অধিকারও দেওয়া হয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করলে দাসদের কান কেটে দেওয়া বা গরম লোহা দিয়ে শরীরে চিহ্ন এঁকে দেওয়ার বিধান ছিল। আদালতে যাওয়ার বা আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারও ছিল না তাঁদের।

রাজা চতুর্দশ লুইয়ের আমলেই ফরাসি উপনিবেশ বিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তিনি উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছিলেন। তাঁর নাম থেকেই বর্তমান Louisiana রাজ্যের নামকরণ। নিজের ক্ষমতাকে তিনি ‘Divine Right of King’ বলে বর্ণনা করতেন এবং তাঁর শাসনব্যবস্থা পরবর্তীকালে ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

ফরাসি সংবিধান অনুযায়ী, কোনও পুরনো আইন বাতিল করতে সংসদে বিল পাস করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু গত ৩৪০ বছরে ব্ল্যাক কোড বাতিলের জন্য কোনও বিলই সংসদে ওঠেনি। ফলে আইনটি কার্যত অচল হলেও আইনের বইয়ে রয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বহু ফরাসি উপনিবেশ স্বাধীন হলেও কিছু অঞ্চল ফ্রান্সের ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থেকে যায়। যেমন ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্তিনিক ও গুয়াদেলুপ। দক্ষিণ আমেরিকায় ফ্রেঞ্চ গায়না। ভারত মহাসাগরে মায়োট আইল্যান্ড ও রিইউনিয়ন আইল্যান্ড। একসময় এই অঞ্চলগুলিই ছিল ফরাসি দাসপ্রথার প্রধান কেন্দ্র। আখ, কফি, তামাক ও তুলোর বাগানে কাজ করানোর জন্য আফ্রিকার উপনিবেশগুলি থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের এনে দাস হিসেবে নিযুক্ত করা হতো।

বর্তমানে এই ওভারসিজ টেরিটরিগুলি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও ফরাসি পার্লামেন্টের সদস্য। তাঁরাই ব্ল্যাক কোড বাতিলের উদ্যোগ নেন। বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন গুয়াদেলুপের সাংসদ Max Mathiasin। বিল নিয়ে আলোচনার সময় ওভারসিজ টেরিটরির প্রতিনিধিরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁদের বক্তব্য, আইনের বই থেকে ব্ল্যাক কোড মুছে গেলেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাসপ্রথার যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তার পূরণ এখনও হয়নি।

ভোটাভুটির পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron বলেন, “এক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পেলাম আমরা।”

Follow Us