Sri Lanka: শ্রীলঙ্কার ইস্টার হামলার পরিকল্পনাকারী ‘ঘর শত্রু বিভীষণ’!
শ্রীলঙ্কার ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে জঙ্গি হামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেদেশের বর্তমান সরকার পার্লামেন্টে যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের ঘনিষ্ঠ এক প্রাক্তন সরকারি আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল, ইস্টার সানডের দিন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর তিনটি চার্চ ও তিনটি হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (IS)-ঘনিষ্ঠ বলে অভিযুক্ত ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত। ওই হামলায় ১১ জন ভারতীয় নাগরিক-সহ মোট ২৮০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ৫০০-র বেশি মানুষ।
শ্রীলঙ্কার ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে জঙ্গি হামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেদেশের বর্তমান সরকার পার্লামেন্টে যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের ঘনিষ্ঠ এক প্রাক্তন সরকারি আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল, ইস্টার সানডের দিন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর তিনটি চার্চ ও তিনটি হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (IS)-ঘনিষ্ঠ বলে অভিযুক্ত ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত। ওই হামলায় ১১ জন ভারতীয় নাগরিক-সহ মোট ২৮০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ৫০০-র বেশি মানুষ।
হামলার সময় শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ছিলেন মৈত্রীপাল সিরিসেনা এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। হামলার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। এরপর গোতাবায়া রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেন এবং প্রায় সাত মাস পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাজাপক্ষে শিবির জয়ী হয়। গোতাবায়া প্রেসিডেন্ট হন এবং তাঁর দাদা মাহিন্দা রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ২০২২ সালের জুলাইয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও গণবিক্ষোভের মুখে রাজাপক্ষে সরকারের পতন ঘটে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েন। এরপর গোতাবায়া দেশ ছেড়ে চলে যান এবং প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে দেশে ফিরলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো নেই। অন্যদিকে মাহিন্দা রাজাপক্ষেও কার্যত সক্রিয় রাজনীতির কেন্দ্র থেকে সরে যান।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। তাঁর সরকারের পাবলিক সিকিউরিটি মন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা পার্লামেন্টে ইস্টার হামলার তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামলার সময় মালয়েশিয়ায় শ্রীলঙ্কার ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবে কর্মরত সুরেশ সাল্লে হামলার প্রায় তিন সপ্তাহ আগে জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণেও তাঁর ভূমিকা ছিল। পরে গোতাবায়া রাজাপক্ষে ক্ষমতায় আসার পর সুরেশ সাল্লেকে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান করা হয়।
বর্তমানে সুরেশ সাল্লে জেলে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার আদালত গোতাবায়া রাজাপক্ষের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে এলটিটিই-র বিরুদ্ধে অভিযানের পর রাজাপক্ষে পরিবার সিংহলি সমাজের বড় অংশের সমর্থন পেয়েছিল। তবে অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সাম্প্রতিক তদন্ত-পর্বের পর শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে তাদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে।

