
আলিপুরদুয়ার: রেলের খাসজমি। সেখানেই বাস করে তারা। কিন্তু, রেলের উচ্ছেদ অভিযানে কার্যত দিশেহারা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সানিয়া রায়। রেল ভেঙে দিয়েছে বাড়িঘর। খোলা আকাশের নীচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বইপত্র নিয়ে অসহায় মাধ্যমিক এই পরীক্ষার্থী। মাথার উপর কোনও আস্তরণ নেই। দু’দিন বাদেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। শ্যামাপ্রসাদ হাইস্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সানিয়া রায় বলে, “রেল থেকে এসে বাড়িঘর সব ভেঙে দিয়েছে। এখন আমরা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছি। আর দুদিন বাদেই পরীক্ষা। কী যে হবে? কিছুই জানি না।”
বিবেকানন্দ ২ গ্রামপঞ্চায়েতের ইন্দিরা কলোনির বহু পরিবার রেলের খাস জমিতে বসবাস করে। রেলের জায়গায় বাড়ি। তাই রেল বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিয়েছে বাড়ি ঘর। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল শুক্রবার সেই এলাকায় যান। ঘুরে দেখেন সবকিছু। ওই পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। একটা ত্রিপলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
এলাকা পরিদর্শনের পর বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, রেল ভয়াবহ আচরণ করেছে। এরা রেলের খাস জমিতে ৫০-৬০ বছর ধরে বসবাস করছেন। গরির মানুষের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী এই অসহায় মানুষদের আবাস যোজনায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। যাতে মাথা গুঁজে বসবাস করতে পারেন। ঘর সংস্কার করতে পারেন। কিন্তু রেল নিজেদের জায়গা বলে বুলডোজার চালিয়ে চলে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭০-৮০ টি পরিবার। একজন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সানিয়া রায় রয়েছে।
বিধায়ক বলেন, “সানিয়ার পরিবার খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। মাথার উপর কোনও আস্তরণ নেই। সোমবার থেকে তার পরীক্ষা। কীভাবে পরীক্ষা দেবে? আমি এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।”
এ ব্যাপারে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম অমরজিৎ গৌতম বলেন, “রেলের জায়গায় বাড়ি হলে তা সরাতে হবে। এ নিয়ে তো তাদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। ওই পরিবারগুলিকে অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থার চেষ্টা হচ্ছে।”