
বাঁকুড়া: এবার আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদীদের ৩ শীর্ষ নেতা নেত্রী। আজ বাঁকুড়া (Bankura) পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমারের কাছে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। অভিযুক্তদের নাম জবা মাহাতো, নয়নতারা সাহু ও রামপ্রসাদ মান্ডি নামের ওই ৩ মাওবাদী নেতা নেত্রী আত্মসমর্পণ করেছেন। অস্ত্র ও জঙ্গলের জীবনকে ভুল দাবি করে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার তাগিদেই এই আত্মসমর্পণ দাবি আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের।
দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সারা দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। তারই প্রক্রিয়া হিসাবে সারা দেশেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে। ক্রমশই কোণঠাসা হচ্ছেন মাওবাদীরা। এবার সেই প্রক্রিয়াতেই আরও বড় সাফল্য এসেছে। নিজেদের অস্ত্র সহ আজ বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে আত্মসমর্পণ করলেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, জবা মাহাতো ও নয়নতারা সাহু মাওবাদী সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্যা ছিল। অন্যদিকে রামপ্রসাদ মাণ্ডি ওরফে সচিন বাংলা -ঝাড়খন্ড – ওরিশা রিজিওনাল কমিটির কমান্ডার ছিলেন। ৩ জনই ২০০৬ সালের আশপাশে মাওবাদী সংগঠনে যুক্ত হন। গত ২ দশকে আত্মসমর্পণকারী ওই ৩ মাওবাদী নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে এ রাজ্য সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ৮০ টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
রাষ্ট্রদ্রোহ ও অস্ত্র আইন সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে এই ৩ আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে। এদিন ২ টি ইনসাস, ১ টি একে ফোর্টি সেভেন বন্দুক ছাড়াও পুলিশের কাছে ১০ টি ম্যাগাজিন ও ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজ জমা দেন আত্মসমর্পণকারী ৩ মাওবাদী। বন্দুকগুলি এ রাজ্যে বিভিন্ন সময় পুলিশের কাছ থেকে মাওবাদীরা ছিনতাই করেছিলেন বলে জানা গেছে।
আত্মসমর্পণকারী ৩ মাওবাদীর দাবি, একসময় জঙ্গলমহলের প্রতি বঞ্চনার কারণেই তাঁরা অস্ত্র ধরে জঙ্গলের জীবন বেছে নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের পথ ভুল। তাই তাঁরা জঙ্গলের জীবন ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চায়। রাজ্য পুলিশের এডিজি বলেন, “আত্মসমর্পণের প্যাকেজের সুযোগ যাতে এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পায় তার জন্য স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আবেদন জানাবে রাজ্যের পুলিশ।”