
বাঁকুড়া: দিনে দুপুরে মারাত্মক ঘটনা। বাজারে গিয়ে যে এমন বিপদে পড়তে হবে, তা ভাবেননি সমীর বাবু। সরল বিশ্বাসে নিজের আঙুল থেকে আংটি খুলে রেখেছিলেন ব্যাগে। সেই ব্যাগ যে এভাবে চুরি হয়ে যাবে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি। বাঁকুড়ার সদর থানা এলাকার ঘটনা। সিসি ক্যমেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটে বাঁকুড়া শহরের সুভাষ রোড এলাকায়। ভরা বাজারের মধ্যে থেকে সোনার আংটি নিয়ে চম্পট দেন দুষ্কৃতীরা। গলায় থাকা সোনার হারও খোয়া গিয়েছে সমীরবাবুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে দুর্গাপুরের বাসিন্দা সমীর দে ব্যক্তিগত কাজে বাঁকুড়ায় গিয়েছিলেন। তাঁর ডান হাতের পাঁচ আঙুলে ছিল ৫টি সোনার আংটি ও গলায় ছিল একটি সোনার হার। এদিন সকালে যখন তিনি বাজারে ঘোরাঘুরি করছিলেন, সেই সময় আচমকা একটি বাইক এসে তাঁর সামনে দাঁড়ায়। বাইক থেকে নেমে দুই যুবক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে সমীর দে-কে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তিকে পুলিশ আধিকারিক বলে পরিচয়ও করায়।
সেই ব্যক্তি সমীর দে কে সতর্ক করে বলেন, ‘এভাবে সোনার আংটি ও হার পরে বাজারে ঘুরে বেড়ালে যে কোনও সময় তা চুরি হয়ে যেতে পারে।’ তাই দ্রুত তা খুলে নিজের ব্যাগে ভরে রাখার কথা বলেন ওই ব্যক্তি। কথা শুনে চমকে যান তিনি। ওই ব্যক্তির কথামতো সমস্ত গয়না খুলে নিজের ব্যাগে রাখেন।
এরপর ওই ব্যক্তি দাবী করেন মাদক পাচার রুখতে তাঁরা অভিযান চালাচ্ছেন। প্রত্যেকের ব্যাগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এরপরই সমীর দে-র ব্যাগে তল্লাশি চালান বাইকে আসা ওই দুজন। এরপর সমীরবাবু দেখেন, তিনজনই চলে গিয়েছেন। পরে সমীর দে নিজের ব্যাগ খুলে দেখেন ব্যাগের মধ্যে রাখা আংটি ও সোনার হার গায়েব।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানান তিনি। পরে খবর যায় বাঁকুড়া সদর থানায়। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। স্থানীয় দোকানগুলির সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করে তিন দুষ্কৃতীরা শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।