
বাঁকুড়া: হাইওয়ে দিয়ে বাস চলছে হু হু করে। সিটে বসা যাত্রীদের কারোর চোখ জানালা দিয়ে বাইরে, কারোর মোবাইলে। আর যাঁরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন ঠাসাঠাসি ভিড়ে তাঁরা নিজের জায়গাটুকু করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আচমকাই আর্তনাদ, গোঙানি। ভিড়ের মধ্যে কী হল. লোকে বুঝে উঠতে পারছেন না। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, এক যুবকের গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। চলন্ত বাসে ভয়ঙ্কর ঘটনা বাঁকুড়ায়। ত্রিকোণ প্রেমের জেরে চলন্ত বাসেই স্ত্রীর প্রেমিকের গলায় ছুরি চালিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন ওই ব্যক্তির স্ত্রীও। মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুরগামী চলন্ত বাসে বাঁকুড়ার মল্লেশ্বরের কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় আহত দুজনকেই ভর্তি করা হয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ছয়েক আগে মালদার হবিবপুরের বাসিন্দা নমিতার সঙ্গে প্রেম ও পরে বিয়ে হয় বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানার অলকাধড়া গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ সিংহের। বছর তিনেক আগে তাঁদের একটি মেয়েও হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে-সহ নিখোঁজ হয়ে যান নমিতা। এরপর নমিতার শাশুড়ি অর্চিতা সিংহ সিমলাপাল থানায় লিখিত অভিযোগে জানান ময়ূরেশ্বরের যুবক শেখ ঔরঙ্গজেব তাঁর পুত্রবধু নমিতা ও নাতনিকে অপহরণ করে লুকিয়ে রেখেছেন।
মঙ্গলবার বিশেষ সূত্রে নমিতার স্বামী সৌরভ খবর পান, প্রেমিক শেখ ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে খাতড়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন নমিতা। এরপর থেকেই নমিতাকে অনুসরণ করতে শুরু করেন স্বামী সৌরভ। নমিতা নিজের মেয়ে ও শেখ ঔরঙ্গজেবকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়া থেকে দুর্গাপুর গামী বাসে উঠলে কেরানিবাঁধ এলাকায় সেই বাসে উঠে পড়েন স্বামী সৌরভও। কিন্তু নমিতা কিংবা তাঁর প্রেমিক কেউই সৌরভকে দেখতে পাননি।
এরপরই সুযোগ বুঝে চলন্ত বাসে সৌরভ হাতে ছুরি নিয়ে ঔরঙ্গজেবের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাধা দিতে গিয়ে আহত হন নমিতাও। ঘটনার পর পরই বাস থেকে নেমে রাতের অন্ধকারে চম্পট দেন সৌরভ। ঘটনায় হতচকিত বাস চালক বাস ঘুরিয়ে সোজা বাঁকুড়া সদর থানার উদ্যেশ্যে রওনা দেন। এরই মাঝে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ বাসটির কাছে পৌঁছে ওই বাসে করেই আহতদের বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। সৌরভের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত অধরা অভিযুক্ত সৌরভ। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা তো প্রথমে বিষয়টা বুঝতেই পারিনি। হঠাৎ দেখছি গোঙানির শব্দ। মুহূর্তের মধ্যে তুলকালামকাণ্ড ঘটে যায়।”