
বাঁকুড়া: সরকারিভাবে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে যে সংখ্যক বেড রয়েছে তার তুলনায় ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা সবসময়ই থাকে বেশি। অগত্যা বহু রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের করিডোরের মেঝেতে শুয়েই নিতে হয় চিকিৎসা পরিষেবা। এবার সরকারি উদ্যোগে বদলাতে চলেছে সেই ছবি। গতকাল স্বাস্থ্য দফতরের সাথে বৈঠকের পর রাজ্যে এসএসকেএম সহ প্রতিটি হাসপাতালে বেড বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাতেই হাল বদলের আশায় বুক বেঁধেছে রাজ্যের অন্যতম বড় হাসপাতাল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ।
রাজ্যের অন্যতম বড় মেডিক্যাল কলেজের তালিকায় রয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ। বাঁকুড়া জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান জেলা এমনকি পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড রাজ্যের রোগীরাও চিকিৎসার আশায় ছুটে আসেন এই হাসপাতালে। সরকারিভাবে এই হাসপাতালে বেড রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০। এর মধ্যে ১৪৪০ টি বেড চালু রয়েছে। অথচ এই হাসপাতালে দৈনিক ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ১৬০০ থেকে ১৭০০ জন। ফলে রোগীদের একাংশকে বেড দেওয়া সম্ভব হয় না। সবথেকে খারাপ অবস্থা প্রসূতি ও মেডিসিন বিভাগে।
প্রসূতিবিভাগে মাঝেমধ্যে রোগীর চাপ এতটাই থাকে যে একেকটি বেডে একাধিক রোগীকে ভর্তি করতে বাধ্য হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিসিন বিভাগে বেড সঙ্কুলান না হওয়ায় ওই বিভাগের একটা বড় অংশের রোগীকে ওয়ার্ডের করিডোরের মেঝেতে শুয়ে থাকতে হয়। অত্যধিক রোগীর চাপে ব্যাহত হয় হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবাও। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালে বেড সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন রোগী ও রোগীর পরিজনেরা।
একদিন আগেই এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর স্বাস্থ্য বৈঠকে হয়েছে বড় সিদ্ধান্ত। কোথায় কত বেড খালি তা জানতে চালু হচ্ছে রিয়েল টাইম ডিসপ্লে। সব সরকারি হাসপাতালে বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। স্বাস্থ্যের অসুখ দূর করতে কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে কাজের বার্তা।