
বাঁকুড়া: অফিস টাইম। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে অন্য কর্মীরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। কিন্তু প্রধানের কক্ষে তখন অন্য দৃশ্য। খোদ পঞ্চায়েত প্রধান মদ্যপ অবস্থায় গড়াগড়ি খাচ্ছেন নিজের অফিসের মেঝেতে। পরিষেবা নিতে এসে এলাকার মানুষ এমন দৃশ্য দেখে ফেটে পড়লেন ক্ষোভে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পৌঁছে প্রধানকে ধরে গাড়িতে তুলে পৌঁছে দিলেন বাড়িতে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়েছে বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের ঝুঁঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েতে।
বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের তৃনমূল পরিচালিত ঝুঁঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামেশ্বর হেমব্রমের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আসেন। ফলে পরিষেবা বিঘ্নিত হয় মাঝেমধ্যেই। গতকাল তেমনই স্থানীয় কয়েকজন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে পরিষেবা নিতে এসে দেখেন, প্রধান নিজের চেয়ারে নেই। এরপরই তাঁদের নজরে আসে ওই কক্ষের মেঝেতে কার্যত বেহুঁশ অবস্থায় গড়াগড়ি খাচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলেই যে এমন অবস্থা হয়েছে তা বুঝতে বাকি থাকেনি এলাকাবাসীর। তাঁরাই প্রধানের এমন অবস্থার ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রাম পঞ্চায়েতে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরে প্রধানের হুঁশ ফিরলেও তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। বহু কষ্টে টলমল পায়ে কোনওরকমে গিয়ে তিনি চেয়ারে বসে পড়েন। তিনি এতটাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন যে কথা বলার মতো অবস্থাও তাঁর ছিল না। পঞ্চায়েত প্রধানকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কী নাম আপনার? প্রশ্ন করায় ঠিক করে নামও বলতে পারেননি। কী করছেন, সেই প্রশ্নেও চুপ করে থাকেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পঞ্চায়েত প্রধানকে কোনওরকমে ধরে গাড়িতে তুলে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেয় ছাতনা থানার পুলিশ।
পঞ্চায়েত প্রধানের এহেন অবস্থার ছবি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। প্রধানের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি নেতা জীবন চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান পঞ্চায়েত অফিসে মদ্যপ অবস্থায় গড়াগড়ি খাচ্ছেন। এর একমাত্র কারণ, তৃণমূল এতদিন পঞ্চায়েত অফিসকে তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছিল। আর তৃণমূলের কার্যালয় মানেই সেখানে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চলে। পুরনো অভ্যাস পঞ্চায়েত প্রধান ভুলতে পারেননি।” তদন্ত করে পঞ্চায়েত প্রধানের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান তিনি।