
বাঁকুড়া: রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয়েছে ডিআইবি ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পালের ছিন্নভিন্ন দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু নাকি আত্মঘাতী হয়েছেন পুলিশ অফিসার (Police Officer)? দুর্ঘটনার তত্ত্ব কার্যত উড়িয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার রাতে বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয় ডিআইবি ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পালের ছিন্নভিন্ন দেহ। রেল পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে।
বাঁকুড়ার কেঠারডাঙা রেলগেট দিয়ে একসময় সাধারণ মানুষ রেললাইন পার করলেও বছর খানেক আগে রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় সাবওয়ে তৈরি হওয়ায় রেলের তরফে রেলগেট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই বন্ধ রেলগেট দিয়ে পারাপার করলে মাঝেমধ্যেই রেল পুলিশ হানা দিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা করে। স্বাভাবিকভাবেই এলাকার মানুষ মানতে নারাজ যে রেললাইনের উপর দিয়ে জয়ন্ত পাল পার হচ্ছিলেন।
এছাড়া ঘটনাস্থল রেলগেট থেকে প্রায় ৫০ মিটার ভিতরে। লাইন যদি পারাপারই করেন ওই পুলিশ আধিকারিক, তাহলে গেট ছেড়ে কেন তিনি এতটা ভিতরে গিয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশ আধিকারিক আত্মহত্যার উদ্দেশেই লাইনের উপরে গিয়েছিলেন। পুলিশ গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে।
২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে এক মধ্যরাতে জয়ন্ত পালের হাতে গুলি লাগে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা দেয়, ওই পুলিশ অফিসার নিজে গাড়ি থেকে বেরিয়ে, নিজের হাতে গুলি চালান। তারপর ওই সাদা গাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তরুণী। গাড়ির ভিতরে সেই সময় বসেছিলেন এক তরুণী।
সেভেন এমএম পিস্তল থেকে গুলি করা হয়েছিল। জানা যায়, ওই তরুণী ছিলেন পুলিশ অফিসারের বিশেষ বান্ধবী। ২৫-৩০ হাজার টাকার কেনাকাটা করা নিয়েই নাকি তাঁদের বচসা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর একের পর অভিযোগ সামনে আসে। তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও নানা গুঞ্জন শোনা যায়। চণ্ডীতলার আইসি পোস্ট থেকে সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে। পরে বাঁকুড়ায় ডিআইবি ইন্সপেক্টর পদে দায়িত্ব পান তিনি।