
বাঁকুড়া: কালীপুজো শেষ! এবার বাঁকুড়া-সহ রাঢ় অঞ্চলের বাসিন্দারা মেতে উঠলেন গরু খুঁটা উৎসবে! এই উৎসবের নামেই রয়েছে একটা রোমাঞ্চ। গরুর শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের উৎসব! কালী পুজোর মরসুম পেরোতেই বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের আদিবাসী গ্রামগুলিতে শুরু হয়েছে এই গরু খুঁটা উৎসব।
কী এই গরু খুঁটা উৎসব?
শত শত বছর ধরে গরু খুঁটা উৎসব পালন করে আসছেন আদিবাসীরা। প্রতি বছর কালী পুজোর দিন অমাবস্যাতে সূচনা হয় এই উৎসবের। আদিবাসী পরিবারগুলি এদিন পরিবারের গৃহপালিত গরুকে স্নান করিয়ে শিঙে তেল মাখিয়ে ও গায়ে বিভিন্ন রঙের ছাপ দিয়ে সাজিয়ে তোলেন।
রাতভর বিশেষ ধরনের লোকায়ত আহিরা গানের মধ্য দিয়ে গরুদের জাগিয়ে রাখা হয়। খেতে দেওয়া হয় ভালো ভালো খাবার ও মহুয়া। পরের দিন পুরোপুরি বিশ্রাম দেওয়া হয় গরুগুলিকে। ভাইফোঁটার সন্ধ্যায় গান গাইতে গাইতে গরুগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় মাঠে।
সেখানে একটি লম্বা খুঁটিতে গরুগুলিকে বেঁধে তার কানের সামনে সশব্দে বাজানো হয় ধামসা মাদল। আর একদল যুবক হাতে গরুর চামড়া নিয়ে গরুর সামনে গিয়ে গরুগুলিকে ক্ষেপিয়ে তোলে। চামড়া দেখে গরু ক্ষেপে উঠে ওই যুবকদের শিঙ বাগিয়ে তেড়ে যায়। শুরু হয় গরুর সঙ্গে যুবকদের ভিন্ন ধরনের খেলা। এই খেলা চলাকালীন গ্রামের মহিলারা দূরে দাঁড়িয়ে ধামসা মাদলের তালে পায়ে পা মিলিয়ে নাচে গানে মেতে ওঠেন। মাটির গন্ধ মাখা সুপ্রাচীন এমন আদিবাসী উৎসব দেখতে শুধু আশপাশের গ্রাম থেকেই নয় শহরের বহু মানুষও এসময় ছুটে যান আদিবাসী গ্রামগুলিতে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই খেলার মধ্য দিয়ে শুধু গৃহপালিত গরুগুলির মনোরঞ্জন করা হয় তাই নয়, পাশাপাশি আমন ধান তোলার আগে গরুগুলির শারীরিক সক্ষমতা বা শক্তি পরীক্ষাও করা হয়।