
বাঁকুড়া: ‘এখনও অনেক প্রশাসনিক আধিকারিক আছেন যাঁরা বিজেপি ও সরকারের কথা শুনছে না। তাঁরা ভাবছেন আবার হাওয়াই চটি আসবে আর তাঁরা চটি চাটবেন। কিন্তু আপনারা জিভে তেল দিয়ে থাকলেও হাওয়াই চটি আর আসবে না”। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে একশ্রেণির প্রশাসনিক আধিকারিকদের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বন, পরিবেশ ও সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী। পরে তাঁর দাবি এই ধরনের আধিকারিকদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তবে শুধু প্রশাসনিক আধিকারিকেরাই নয়, প্রকাশ্য ওই সভা মঞ্চ থেকে রাজ্যের মন্ত্রী ও সাংসদের আক্রমণের নিশানা হল বিরোধীরাও।
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাঁকুড়ার সোনামুখীতে বৃহস্পতিবার বিকালে মিছিল ও সভা করে বিজেপি। ওই সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে সরকারী আধিকারিকদের একাংশকে নিশানা করেন রাজ্যের বন, পরিবেশ ও সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী। তিনি বলেন, “সরকারি আধিকারিকদের একাংশ বিজেপি ও সরকারের কথা শুনছে না।” পরে কোন পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য তা জানাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি দেখা গিয়েছে কোনও আধিকারিক সিপিএম-এর সভায় গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করছেন, আবার কোনও আধিকারিক সিপিএম এর সভায় লোক জমায়েত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁদের উপর সরকার কড়া নজর রাখছে। হয় আপনারা সরকারি আধিকারিক হিসাবে মানুষের জন্য কাজ করুন অথবা সরকারি পদ ছেড়ে রাজনীতি করুন।”
এদিনের সভায় মন্ত্রীর নিশানায় সরকারী আধিকারিকদের পাশাপাশি ছিল বিরোধীরাও। তৃণমূলকে একহাত নিয়ে মন্ত্রী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বলেন, “তৃণমূলের শুধু জোড়াফুলই নয়, মূলটিই পচে গিয়েছে। তাই আর কোনওদিনই তৃণমূলকে দেখা যাবে না। তৃণমূল ইতিহাস হয়ে গিয়েছে। পরে সমাজমাধ্যম চালিয়ে দেখতে হবে তৃণমূল বলে একটি দল ছিল।” এদিনের সভা থেকে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর নিশানায় ছিল সিপিএম। সিপিএম-এর নেতাদের একাংশকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা বলে উল্লেখ করে তাঁদের কার্যকলাপের কড়া সমালোচনা করেন সাংসদ।