
বাঁকুড়া: তৃণমূলে যোগ দিল ৫০টি পরিবার। শাসক শিবিরের দাবি বিজেপি, সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে তারা। বাঁকুড়ার কোতুলপুরে তৃণমূলের ব্লক কার্যালয়ে এই যোগদান হয়। বিজেপির দাবি, তাদের নীতি আদর্শে বিশ্বাসীরা কখনও দল বদল করতে পারে না। যারা দল বদল করেছে, তারা স্বার্থের জন্য এসেছিল।
বিধানসভা, লোকসভা ভোটে বিজেপি এখানে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার কোতুলপুর বিধানসভায় তৃণমূলকে হারায় বিজেপি। বিজেপির হরকালী প্রতিহার জয়ী হন। যদিও লোকসভা ভোটের আগে আগে দল ছাড়েন এই বিধায়ক। যোগ দেন তৃণমূলে। তাতেই কোতুলপুরে বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষমতা কিছুটা ধাক্কা খায় বলেই মত অনেকের।
লোকসভা নির্বাচনে সেই ধাক্কা কিছুটা সামলে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রটি বিজেপি ধরে রাখতে সমর্থ হয়। তবে ভোটের পর থেকেই কোতুলপুরে তৃণমূল শক্তি বাড়াতে শুরু করে। সেই আবহে এদিনের যোগদান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে যিনি বিজেপির টিকিটে জিতে শাসকদলে যোগ দেন, সেই হরকালী প্রতিহারই এদিন নতুন সদস্যদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।
২০২৩ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে হরকালী বলেছিলেন, “বাংলার মানুষের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন, সেই উন্নয়নে শামিল হতে চেয়েছিলাম আমি। বাংলার মানুষকে কেন্দ্রের সরকার নানাভাবে বঞ্চিত করছে। তার প্রতিবাদ জানিয়েই তৃণমূলে যোগ।” সেই বিধায়কই এদিন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা কর্মীদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন।
দলত্যাগীদের একাংশের বক্তব্য, বিজেপির স্থানীয় নেতারা খুবই খারাপ ব্যবহার করেন। মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ রয়েছে তাঁদের। কোতুলপুরের বিধায়ক হরকালী প্রতিহারের কথায়, “বিজেপি, সিপিএম থেকে প্রায় ৫০টি পরিবার শতাধিক কর্মী আমাদের তৃণমূলে যোগ দিল। সিপিএমের ১টা পরিবার, বিজেপির বাকিরা।”
যদিও কোতুলপুরের মণ্ডল সভাপতি কেশবী নাগা বলেন, “বিজেপির কেউ অন্য দলে যেতেই পারে না। কিছু ধান্দাবাজ লোক এ দল ও দল করে বেড়ায়। খারাপ ব্যবহারের প্রশ্নই নেই। বিজেপির নীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। মণ্ডল সভাপতি খারাপ ব্যবহার করলে তো বলতে পারত।”