
বাঁকুড়া: রাজ্যের খাদ্য দফতরের প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা রানিবাঁধের প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডির বিধায়ক কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল ত্রাণের রাশি রাশি কম্বল, ত্রিপল, শিশুদের পোশাক-সহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র। খাতড়া বাজারের পাম্প মোড়ে থাকা কার্যালয় থেকে ওই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই ব্যাপাক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। চাপানউতোর রাজনৈতিক আঙিনাতেও।
২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরপর দু’বার বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রানিবাঁধ থেকে জয়ী হন তৃণমূলের জ্যোৎস্না মান্ডি। ২০২১ সালে জিতে তিনি রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আর তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এলাকায় তাঁকে দেখাও যায়নি। খাতড়ার পাম্প মোড়ে থাকা তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ও তখন থেকে ছিল তালাবন্দি।
এদিন দুপুরে আচমকাই বিজেপির কিছু কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিধায়ক কার্যালয়ের দরজায় থাকা তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। তাঁদের দাবি ওই কার্যালয়ে থরে থরে সাজিয়ে রাখা ছিল ত্রাণের অসংখ্য ত্রিপল, কম্বল, শিশুদের জামাকাপড়, বিশেষভাবে চাহিদা সম্পন্নদের দেওয়ার জন্য ট্রাই সাইকেল সহ বিভিন্ন সরকারি সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরে ডাঁই করে রাখা থাকায় কম্বল, ত্রিপল ও পোশাকগুলির একাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে উইপোকার দাপটে।
কার্যালয় থেকে লাঠি, রড, তলোয়ার-সহ বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্রও মিলেছে বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীদের দাবি এলাকার অনেক গরিব মানুষই বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত দরকারে একটা ত্রিপল বা কম্বল চেয়েও পায়নি। অথচ সরকারি সেই সব সামগ্রী এতদিন ধরে তৎকালীন বিধায়ক তথা মন্ত্রী নিজের দলীয় কার্যালয়ে ডাঁই করে রেখেছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার বদল না হলে বিরোধীদের আক্রমণের উদ্যেশ্যে দলীয় কার্যালয়ে রড লাঠি ও তলোয়ারও মজুত করে রেখেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।