
সাঁইথিয়া: এক পরিচারিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত বীরভূমের সাঁইথিয়া। গৃহকর্তার বাড়িতে বছর চোদ্দোর ওই পরিচারিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। রাস্তা অবরোধ। অভিযুক্তদের গ্রেফতার দাবিতে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাঁইথিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। যদিও ওই কিশোরী যে বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত, তারা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সাঁইথিয়ার বাসিন্দা ওই কিশোরী একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত। সে অসুস্থ হয়ে গেলে ওই বাড়ির লোকেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে ওই বাড়ির লোকেদের দাবি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে কিশোরীকে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যে বাড়িতে কিশোরী পরিচারিকার কাজ করত, সেই বাড়ির গৃহকর্তা ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “আমাদের এখানে যদি ধর্ষণ করা হত, আমরা কি হাসপাতালে নিয়ে যেতাম? অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।” বছর দুয়েক তাঁদের বাড়িতে নাবালিকা কাজ করত জানিয়ে তিনি বলেন, “গত ২ বছর আমাদের বাড়িতে কাজ করত। সে বিষ খেয়েছিল। কেন খেয়েছিল, তা বাড়ির লোককে জিজ্ঞাসা করুন।”
এদিকে, কিশোরীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “মৃত্যুর পরও বাড়িতে জানায়নি। একদিন পর জানিয়েছে। কেন এটা হবে? এরপর মৃতদেহ এনে ঘণ্টা তিনেক একটা গোডাউনে রাখে। ওই বাড়িতে আর একজন কিশোরী কাজ করে। তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু, তাকে ওরা বাড়ির বাইরে আসতেই দেয়নি। তার মানে কিছু লুকোচ্ছে।” আর এক বিক্ষোভকারী বলেন, “কাজ করত। ওই বাড়িতেই থাকত। মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা ন্যায্য বিচার চাই। ন্যায্য বিচার না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে।”