
হাসন : ফয়জল হক ওরফে কাজল শেখ। দাপুটে তৃণমূল নেতা। বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত-র পাশাপাশি আরও একটা উল্লেখযোগ্য নাম। যখন অনুব্রত মণ্ডল জেলে ছিলেন, সেইসময় বীরভূমে দলের সংগঠনকে দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহল বলছে, তাঁকে বিধানসভার প্রার্থী করে তারই পুরষ্কার দিয়েছে দল। তবে, বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। এর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়েছেন কাজল শেখ। বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম লড়াই করছেন। হাসন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। সম্প্রতি, মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হলফনামায় নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব দিয়েছেন। বছর ৫১-র কাজল শেখ ঠিক কত সম্পত্তির মালিক? ক’টা গাড়ি-বাড়ি রয়েছে? কত মামলাই বা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে? কী রয়েছে হলফনামায়? জেনে নেওয়া যাক
আয়
কাজল শেখের আয়
হলফনামায় নিজের এবং স্ত্রীর গত পাঁচ অর্থবর্ষে আয়ের হিসেব দিয়েছেন কাজল শেখ। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯২০ টাকা। পরের অর্থবর্ষে আয় কিছুটা কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৬ লক্ষ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় কিছুটা বেড়ে হয় ৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫২৮ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় একলাফে বেড়ে যায়। তাঁর আয় ছিল ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩৯১ টাকা। তবে, পরের অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫-এ তাঁর আয় সামান্য কমেছে। এই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৮ লাখ ৩১ হাজার ২৯৪ টাকা।
কাজল শেখের স্ত্রীয়ের আয়
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৮২৪ টাকা। পরের অর্থবর্ষে আয় বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৫ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৬৩ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় কিছুটা বেড়ে হয় ৫ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় একলাফে বেড়ে যায়। তাঁর আয় ছিল ৬ লক্ষ ১৯ হাজার ২০৪ টাকা। পরের অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫-এ আয় আরও বেড়েছে। এই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৩ টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তি
কাজল শেখের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৫৬ টাকার বেশি। স্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৯ টাকা। কাজলের নামে দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে একটি ব্যাঙ্কে রয়েছে ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৮-র বেশি। আরেকটি ব্যাঙ্কে রয়েছে ৪৩ লাখ ১৮ হাজার ১৫৫ টাকা। তাঁর স্ত্রীর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাতে ১৩ লাখের বেশি নগদ রয়েছে। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কোনও গাড়ি বা সোনা নেই। কাজল শেখের স্ত্রীর কাছে ৫০৩ গ্রাম সোনা রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ লাখ ৭ হাজার ৮০০ টাকা। কাজল শেখের মোট অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকার। আর তাঁর স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ২২৮ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি
কাজল শেখ ও তাঁ স্ত্রীর কৃষিজমি রয়েছে। কাজলের কাছে যে কৃষিজমি রয়েছে, তাঁর বর্তমান বাজারমূল্য ৬০ লাখ। স্ত্রীয়ের কৃষিজমির মূল্য ১৫ লাখ। কাজলের কাছে অকৃষি জমিও রয়েছে। তার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা। স্ত্রীয়ের নামে অকৃষি জমির মূল্য ২৪ লাখ। দু’জনের নামেই একাধিক বাড়ি রয়েছে। সব মিলিয়ে কাজলের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬৭০ টাকা। স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৯৩ লক্ষ।
কাজলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে নানুর থানায় ৫টি ও বোলপুর থানায় একটি।ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, চুরি, সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টির মতো অভিযোগ রয়েছে।
কাজল শেখ হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর নামে কোনও ঋণ নেই। পেশায় মৎস্য চাষি। তাঁর স্ত্রী নাহিদা খাতুন হাউজ় ওয়াইফ। আয়ের উৎস হিসেবে নিজস্ব চাষবাস ও জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া ভাতা-কে উল্লেখ করেছেন। কাজল শেখের শিক্ষাগত যোগ্যতা ২০১২ সালে মেঘালয়ের সিএমজে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক।