
কলকাতা: কথায় আছে ‘সব তীর্থ একবার, গঙ্গাসাগর বারবার’। কিন্তু, বারবার গঙ্গাসাগর যাওয়ার রাস্তাও কম কঠিন নয়। সড়কপথ থেকে নদীপথ, তারপর ফের সড়কপথে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে গঙ্গাসাগর (Gangasagar Train) যেতে হয়। যেখানে সরাসরি ট্রেন থাকলে অনেক কম সময়ে, বারবার ট্রেন-বাস-নৌকায় না চেপে কপিল মুনি আশ্রমে পৌঁছে যাওয়া যায়। এবার কি শীঘ্রই সেই সুবিধা পেতে চলেছেন যাত্রীরা? দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরাসরি গঙ্গাসাগর পর্যন্ত চালু হচ্ছে ট্রেন? এই নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।
আজ পশ্চিমবঙ্গে নতুন ট্রেনের উদ্বোধন হয়েছে। সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই রেলমন্ত্রীর কাছে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেল পরিষেবা চালুর দাবি জানালেন তিনি। গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য সমীক্ষক দল পাঠানোরও অনুরোধ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গঙ্গাসাগর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। তাই এই পুণ্যভূমিকে রেল মানচিত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গঙ্গাসাগরে যাতায়াত আরও সহজ করতে মুড়িগঙ্গার উপর সেতু তৈরির কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অশ্বিনীজিকে অনুরোধ করব আপনি শ্রীনগর কাশ্মীর থেকে শুরু করে রামেশ্বরম পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। একটা দিতেই হবে আপনাকে বাংলার জন্য। গঙ্গাসাগরের জন্য রেললাইন চাই। গঙ্গাসাগর আমাদের বিশ্বাস, আস্থার প্রধান কেন্দ্র। সব তীর্থ একবার গঙ্গাসাগর বারবার। মুড়ি গঙ্গার উপর ব্রিজ বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছি। ২০২৯-এর মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। রেল মানচিত্রে গঙ্গাসাগরকে গুরুত্ব দিন।” উল্লেখ্য, এর আগেও গঙ্গাসাগরে রেল পরিষেবা চালু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, আগামী বাজেটে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ট্রেন পেতে পারেন বাংলার মানুষ।
শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ বা নামখানাগামী ট্রেনে উঠতে হবে। নামতে হয় কাকদ্বীপ স্টেশনে। তারপর সেখান থেকে টোটোতে চেপে যেতে হয় লট আট ঘাটে। সেখান থেকে লঞ্চে কচুবেড়িয়া। তারপর কচুবেড়িয়া থেকে আবার বাস বা গাড়িতে গেলে পৌঁছতে পারবেন গঙ্গাসাগর।