
কোচবিহার: দলের ভরাডুবি হয়েছে। তিনি অবশ্য এবার নির্বাচনে টিকিট পাননি। তা নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ হয়েছিল তাঁর। তবে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার সফরে গিয়ে তাঁকে কাছে টেনে নেওয়ায় ক্ষোভ কমেছিল। এবার দলের ভরাডুবি হতেই বিস্ফোরক কোচবিহারের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দলে কোণঠাসা করা হয়েছে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে। টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে কী কী বললেন রবীন্দ্রনাথ?
অভিষেককে তোপ রবীন্দ্রনাথের-
বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য অভিষেককে নিশানা করে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “আমার কেন জানি না মনে হয়েছিল, রাজ্য স্তরে দলটা দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদিকে দিদি। আর একদিকে অভিষেক। অভিষেক নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে দিদির উপর চাপ সৃষ্টি করতেন বলে আমার ধারণা। যার কারণে, নিজের স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলো দিদি নিতে পারতেন না। দিদি যদি তাঁর স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারতেন, তাহলে দল হয়তো ক্ষমতায় থাকত। বাংলার মানুষের ভাবনা সম্পর্কে অভিষেকের এখনও এতটা অভিজ্ঞতা হয়নি। ও হয়তো বুঝেই উঠতে পারেনি। কর্পোরেট স্টাইলে করতে গিয়ে সবকিছু তছনছ করে দিল।”
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর যাঁরা দলে এসেছেন, তাঁদের একাংশকে তোপ দেগে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “এখন জেলা, ব্লকে যাঁরা ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন, তাঁদের ৯০ শতাংশ তৃণমূল করেননি। তৃণমূলে আসার কারণ সুযোগটা কাজে লাগানো। এই যে উদয়ন গুহ, উনি তো তৃণমূলটা করেননি। এসেই এঁরা সিন্ডিকেট করলেন।”
কেন এই বিপর্যয়? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, “দল যেদিন থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেছে। সেদিন থেকে পতন শুরু। বাংলায় এই কর্পোরেট কায়দা সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। সুব্রত বক্সির মতো লোককে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে দেখা যায়নি। এগুলোও একটা বড় মাইনাস পয়েন্ট।” কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব? এই নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “খোলনলচে পাল্টে ফেলতে হবে। যে সমস্ত পরিযায়ী এসে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে, তাঁদের ঝেঁটিয়ে তাড়াতে হবে।”