KLO: আবারও জিগির দিচ্ছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন, KLO উত্থানের পিছনের ইতিহাস কী?

Coochbehar: দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের। কোচবিহার রাজবাড়িতে একটি বৈঠক করে বেশ কয়েকজন রাজবংশী যুবক তারা এই কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন তৈরি করেন।

KLO: আবারও জিগির দিচ্ছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন, KLO উত্থানের পিছনের ইতিহাস কী?
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন (KLO) (নিজস্ব ছবি)

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Jun 07, 2022 | 2:01 PM

কোচবিহার: ধিকধিক আগুনটা জ্বলছিলই। তবে তার বিস্ফোরণ হয় সোমবার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের আগেই আলাদা রাজ্যের দাবি তুলে ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে কামতাপুর লিবারাইরেশন অর্গানাইজেশন বা কেএলও (KLO)। সেই ভিডিয়ো বার্তায় হুমকিও দিতে দেখা গিয়েছে কেএলও প্রধান জীবন সিং-কে। রীতিমতো ‘রক্তাগঙ্গা বইয়ে’ দেওয়ারও হুমকি দিতে শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়। তবে প্রশ্ন ফের কেন জিগির দিচ্ছে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠন?

কেএলও-র ইতিহাস

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের। কোচবিহার রাজবাড়িতে একটি বৈঠক করে বেশ কয়েকজন রাজবংশী যুবক তারা এই কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন তৈরি করেন। এবং অস্ত্র তুলে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ডাক দেন। তাঁদের একাধিক দাবির মধ্যে অন্যতম কামতাপুর রাজ্য গঠন।

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাস। তৎকালীন বাম জমানায় এই কেএলও-র উৎপত্তি। আলিপুরদুয়ার কুমারগ্রাম এলাকার বেশ কিছু যুবক প্রথমেই এই সংগঠনে যোগ দেন । বর্তমান এই সংগঠনের প্রধান জীবন সিংহ। তাঁর বাড়ি আলিপুরদুয়ার কুমারগ্রাম এলাকায় । তৎকালীন আরএসপি এবং পুলিশের একরোখা কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তৈরি হয়েছিল এই জঙ্গি সংগঠন।

এরপর নদী গিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। সালটা ২০০০। একসময় ধূপগুড়ি-তে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে বেশ কয়েকজন সিপিআইএমের নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছিল এই কেএলও জঙ্গিরা। বৈআইনি কায়দায় একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে আদায় করা হত অর্থ। মূলত, ULFA জঙ্গি সংগঠনের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন।

এরপর বাম জমানার পতন ২০১১ সালে। বাম শাসনের অবসানের পর কেএলওরা বর্তমান তৃণমূল সরকারকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল । তৈরি হয়েছিল আলোচনা পন্থী KLO সংগঠন । জঙ্গিরা মূলস্রোতে ফিরে আসবার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রস্তাবও দিয়েছিল । তৎকালীন কোচবিহারের জেলাশাসকের দফতরে KLO গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয় ।

রাজ্যে ক্ষমতা বদল হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বেশ কিছু KLO নেতাদের মুক্তি দিয়েছিলেন জেল জীবন থেকে। এর পরেই আলোচনার দরজা খুলে যায় বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় জীবন সিং মায়ানমারের জঙ্গল থেকে বার্তা দিয়েছিলেন তাঁদের উপর পুলিশের দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়া সহ সরকারি সাহায্য পেলে জঙ্গিরা সমাজের মূল স্রোতে ফিরবেন। এই নিয়ে আলোচনা বেশ কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পরেও সমাধানসূত্র মেলেনি।

জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক সন্ধ্যায় KLO তথাকথিত নেতা টম অধিকারী, মিল্টন বর্মা, হর্ষবর্ধন বর্মা, প্রদীপ রায় পুলস্থ বর্মণ সহ আরও বেশ কয়েকজন আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা তাদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সরকারকে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেই প্রস্তাব নিয়ে বেশ কিছুদূর আলোচনা হওয়ার পর তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। সমাধান হয়নি তাদের বিষয়ে ।

এরপরেও কেটে গেছে প্রায় দশ বছরের বেশি সময়। ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন। রাজনৈতিক মহলের ধারনা KLO নেতারা যে সময় সরকারকে তাদের মূল স্রোতে ফেরানোর আলোচনার দরজা খুলে ছিলেন সেই সময় সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করলে আজকের এই পরিস্থিতি নাও আসতে পারতো । জেলা প্রশাসন ও উত্তরবঙ্গের প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ২০১১ সালে এই নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করলেও রাজ্যস্তরে তা ভেস্তে যায় । ফলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরে রয়ে গিয়েছে ।

প্রায় দশ বছর পর নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে আরও একবার সক্রিয় ভূমিকায় জীবন সিংহ । উত্তরবাংলা ভাগের দাবিতে নতুন করে KLO কে সংগঠিত করার একটা চেষ্টা ফের একবার শুরু হয়েছে উত্তর-পূর্ব থেকে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য সিপিএম জামানার অবসানের পর নতুন তৃণমূল সরকারকে আলোচনার জন্য যে প্রস্তাব KLO র পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হয়তো সেই সময়ই শেষ হয়ে যেতে পারত ।

 

Follow Us