
দক্ষিণ দিনাজপুর: একটি স্টিং অপারেশন। তাতে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন। যেখানে জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভোটের আগে এই ভিডিয়ো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই ইস্যুতেই এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলায় এসে এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বললেন, ‘দিদির এজেন্ট হুমায়ুন!’ পাশাপাশি এটাও স্পষ্ট করলেন, “এখানে বিজেপি সরকার আসবে, এখানে বাবরি মসজিদ তৈরি হতে পারে না।”
বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে এই ভিডিয়ো প্রসঙ্গে শাহের আক্রমণাত্মক মন্তব্য রাজনৈতিক পারদকে তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছে। তিনি সাফ বলেন, “হুমায়ুন কবীর আসলে দিদিরই (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এজেন্ট।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বিজেপির বদনাম করতে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এটি একটি পরিকল্পিত চিত্রনাট্য মাত্র।
তবে শাহের বক্তব্যের সবচেয়ে বিতর্কিত ও চর্চিত বিষয়টি হল অযোধ্যার রাম মন্দির প্রসঙ্গ। তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষ পরিবর্তন আনতে চলেছে। এখানে বিজেপি সরকার আসবে। আর এটা স্পষ্ট করে দিই, বাংলায় কোনওভাবেই বাবরি মসজিদ তৈরি হতে পারে না।”
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই স্টিং অপারেশন হুমায়ুন কবীরকে যথেষ্টই অস্বস্তিতে ফেলেছে। এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা করেনি TV9 বাংলা। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, হুমায়ুনের কথোপকথনের মধ্যে স্পষ্ট, বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। নীতীশ কুমারের মতো ১০০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি নিজে রেখে দেবেন বলতেও শোনা যায় তাঁকে। খোদ শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে দিল্লি যাওয়ার প্রস্তাব দেন বলেও শোনা যায়। তবে হুমায়ুন কবীর নিজে এই ভিডিয়োর সত্যতা অস্বীকার করেছেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ভিডিয়োকে ‘বিজেপির গোপন আঁতাঁত’-এর প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, অমিত শাহের এই পাল্টা মেরুকরণের রাজনীতি এবং ‘এজেন্ট’ তকমা লড়াইকে নতুন মাত্রা দিল। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘স্টিং বনাম তোপ’-এর লড়াই এখন জনমানসে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।