
বালুরঘাট: বাংলার ঘরে ঘরে যখন দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন মানুষ, তখন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের (Balurghat) দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দারা অপেক্ষা করে থাকেন কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর (Laxmi Puja 2026) জন্য। কারণ, এই গ্রামের লক্ষ্মীপুজো আর পাঁচটা পুজোর মতো নয়। এখানে দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে একই কাঠামোয় পূজিত হন রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, লব-কুশ এবং হনুমান। শুধু তাই নয়, এখানে লক্ষ্মীপুজো একদিনের নয়, চার দিন ধরে হয়ে উৎসব।
দুর্লভপুরে দুর্গাপুজোর আয়োজন হয় না। তাই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করেই উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা গ্রামে। চার দিন ধরে চলে আনন্দ-উৎসব। আয়োজন করা হয় লক্ষ্মীমঙ্গল গানের আসর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। উৎসবের দিনগুলিতে আত্মীয়স্বজনের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে ওঠে গ্রাম।
গ্রামবাসীদের দাবি, এই পুজো শতাধিক বছরের পুরনো। তবে ১৯৬৮ সাল থেকে দুর্লভপুরে বড় আকারে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন শুরু হয়। স্থানীয় দুর্জয় সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো আজও গ্রামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
দুর্লভপুরের লক্ষ্মীপুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রতিমার বিশেষ কাঠামো। একচালার প্রতিমায় মাঝখানে থাকেন দেবী লক্ষ্মী। দু’পাশে পূজিত হন রাম ও লক্ষ্মণ। সামনে থাকেন লব-কুশ। দেবীর পায়ের কাছে দেখা যায় পেঁচা। পাশাপাশি থাকেন হনুমানও। তবে কেন এই বিশেষ রীতিতে পুজো হয়, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই গ্রামবাসীদের কাছে। তাঁদের ধারণা, লক্ষ্মীমঙ্গল গানের সঙ্গে রামায়ণের চরিত্রগুলির যোগসূত্র থেকেই হয়তো এই প্রথার প্রচলন হয়েছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে।
এক গ্রামবাসী বলেন, “প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুজো। চারদিন ধরে পুজো চলে। দুপুরবেলা ও সন্ধেবেলা ভোগারতি হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। লক্ষ্মীর যে ব্রতকথা তা গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। যাত্রা হয়।” আরও এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুজোর জন্যই অপেক্ষা করে থাকেন তাঁরা বছরভর। এইসময় তাঁদের নতুন জামা-কাপড় হয়। আত্মীয়রা আসেন। চারদিন ধরে আনন্দে মেতে ওঠে সকলে।
কৃষিপ্রধান দুর্লভপুরের মানুষের কাছে দেবী লক্ষ্মী শুধুমাত্র আরাধ্য দেবী নন, তিনি শস্য ও সমৃদ্ধির প্রতীকও। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, নিষ্ঠাভরে লক্ষ্মীর আরাধনা করলে ফসলের ফলন ভালো হয়, সংসারে আসে সুখ-সমৃদ্ধি। তাই পূর্বপুরুষদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পুজো আজও গ্রামের মানুষের কাছে আবেগের অন্য নাম।