
বংশীহারি: এক সময় চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি ছিলেন। সেই জেলেই একদিন নিজের হাতে গড়েছিলেন দেবী দুর্গার প্রতিমা। এরপর বদলে যায় জীবনের গল্প। আইনি লড়াইয়ে মুক্তি মেলার পরেও অবশ্য জেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। বরং প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে ফের ডাক আসে তাঁর। এবারও তাঁর হাতেই তৈরি প্রতিমায় পুজো হবে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। শুধু বালুরঘাট নয়, চলতি বছর থেকে রায়গঞ্জ সংশোধনাগারের জন্যও প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছেন প্রাক্তন বন্দি তথা মৃৎশিল্পী রাজু সরকার।
জেলের ভিতরেই দুর্গাপ্রতিমা তৈরি…
দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শেরপুরের বাসিন্দা রাজু সরকার। ছোটবেলা থেকেই মূর্তি তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে। একটি পকসো মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তখন বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। সেই সময় জেলের ভিতরেই দুর্গাপ্রতিমা তৈরির দায়িত্ব পান রাজু। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিমা তৈরির পরই জীবনে যেন নতুন মোড় আসে। কয়েকদিনের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে ওই মামলায় সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়। এবং পাকাপাকিভাবে জেল থেকে মুক্তি মেলে রাজুর।
তবে ২০১৮ সাল থেকে পুরো দমে প্রতিমা তৈরি করছেন রাজু সরকার। তবে জেল থেকে বেরিয়ে এলেও বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে যায় রাজুর। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের অনুরোধ এবং মায়ের প্রতি ভক্তি থেকেই প্রতি বছর দুর্গাপুজোর প্রতিমা তৈরি করে আসছেন তিনি। সাবেকি ঘরানার একচালা প্রতিমা, ডাকের সাজে সজ্জিত করে তৈরি করেন রাজু ও তাঁর স্ত্রী পূজা প্রামাণিক। পরে সেই প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় সংশোধনাগারে।
২০১৬ সাল থেকে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বড় আকারে দুর্গাপুজোর আয়োজন শুরু হয়। নিজের হাতে তৈরি দেবী প্রতিমার মাধ্যমে সংশোধনাগারের আবাসিকদের কাছে শান্তি, আশা এবং নতুন জীবনের বার্তা পৌঁছে দিতে চায় রাজু। বালুরঘাটের পাশাপাশি এবার রায়গঞ্জ জেলের দুর্গাপ্রতিমার বরাত পেয়েছে রাজু। এছাড়াও বুনিয়াদপুর ও তার আশেপাশে বেশ কয়েকটি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছে সে। তাই নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে প্রতিমা তৈরি কাজ করছে রাজু ও তাঁর স্ত্রী।