
বালুরঘাট: পুজোর আগে বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রাজবংশী ভাষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের। গত দুমাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। পুজোর আগে বেতন না হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। পুজোর আগে বকেয়া বেতনের দাবিতে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামলেন রাজবংশী ভাষার শিক্ষকরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। এদিন স্কুল চালু হওয়ার পর একবার এমন সমস্যা হয়েছিল। প্রায় নয় মাস বেতন বন্ধ ছিল। লাগাতার আন্দোলনের পর মিলেছিল সেই বেতন। পুজোর আগে আবার বন্ধ হয়েছে বেতন। দু’মাসে বেতন পাননি শিক্ষক শিক্ষিকারা। এমত অবস্থায় তারা আবার আন্দোলনে নামতে চলেছেন।
মঙ্গলবার বালুরঘাট ডিএম অফিসের সামনে ধর্নায় বসতে চলেছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। এদিন দি গ্রেটার কোচবিহার পিপলস্ অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে বালুরঘাটে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হলো। মঙ্গলবার দুপুর বালুরঘাট ডিএম অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান সংগঠনের সদস্যরা। তার আগে বালুরঘাট হাই স্কুল থেকে একটি র্যালি বের করা হয়।
যা গোটা শহর পরিক্রমার পর ডিএম অফিসের সামনে আসে। সেখানেই বিক্ষোভ দেখান বিক্ষোভকারীরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডিএম অফিস চত্বরে বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ডিপিএসসির চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ১৬ টি রাজবংশী ভাষা প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও এর মধ্যে ১২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে চালু রয়েছে। বাকি চারটি বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক দেওয়া হয়নি। যার ফলে সেগুলো চালুও হয়নি। ১২ টি স্কুলে ৪৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা আছে। যারা মূলত প্যারা টিচার হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। পিপি থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত রাজবংশী ভাষায় পড়ানো হয়। এই স্কুল গুলোতে প্রায় ৯৬০ জন পড়ুয়া রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে স্কুল চালু হলে পরেও এখনও কোন স্কুলে নেই কোন স্থায়ী ভবন।
বর্তমানে টিনের চালা ঘরেই চলে ক্লাস। শিক্ষক শিক্ষিকারা মাসে ১০ হাজার টাকা করে বেতন পান। স্কুল চালু হওয়ার পর একবার এমন সমস্যা হয়েছিল। প্রায় নয় মাস বেতন বন্ধ ছিল। লাগাতর আন্দোলনের পর মিলেছিল সেই বেতন। পুজোর আগে আবার বন্ধ হয়েছে বেতন। দু মাসে বেতন পাননি শিক্ষক শিক্ষিকারা। এমত অবস্থায় তারা আবার আন্দোলনে নামতে চলেছেন। মঙ্গলবার বালুরঘাট ডিএম অফিসের সামনে ধর্নায় বসতে চলেছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা।
দি গ্রেটার কোচবিহার পিপলস্ অ্যাসোসিয়েশন শিক্ষক তথা জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ বর্মন বলেন, “দু’বছর ধরে স্কুলে নিয়োগ হয়নি। তার ওপর দুমাস ধরে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারাও বেতন পাচ্ছেন না। প্রতিবাদে আমরা রাস্তায় নামালাম। রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতিতে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসকের যে বঞ্চনা, তা দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করেছি।”
উল্লেখ্য, রাজবংশী ভোটের উপর ‘ভরসা’ করেই গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে অঙ্ক কষেছিল বিজেপি। কিন্তু সে অঙ্কের ফল মেলেনি। বরং নির্বাচনের ফল বেরনোর পর দেখা যায়, বিজেপির অস্বস্তি বেড়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে আবারও রাজবংশী যুযুধান প্রতিপক্ষের কাছে একটা বড় হাতিয়ার। এই পরিস্থিতিতে রাজবংশী শিক্ষকদের বেতন বন্ধ একটি জ্বলন্ত ইস্যু।