
হরিরামপুর : কালিয়াচকের ঘটনায় ফের কমিশনকে দুষলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিরামপুরের সভা থেকে আরও একবার স্মরণ করালেন, প্রশাসন এখন তাঁর হাতে নেই। কিন্তু, তারপরেও কালিয়াচকের ঘটনায় তৎপর রাজ্য। আজ মালদহে এনআইএ পৌঁছানোর আগেই কালিয়াচক কাণ্ডে মিম নেতাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। সেই প্রসঙ্গ তুলেই এদিন মমতা বলেন, “মালদহের ঘটনায় এনআইএ আসার আগেই অভিযুক্তদের ধরেছে আমাদের সিআইডি।” রাজনৈতিক মহল বলছে, ঠারেঠোরে তিনি এটাই বোঝাতে চাইলেন যে কেন্দ্রীয় সংস্থার চেয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কোনও অংশে কম নয়। কমিশন নয়, রাজ্যের তৎপরতাতেই মূল অভিযুক্ত ধরা পড়েছে। এমনটাই বোঝাতে চাইলেন তৃণমূল নেত্রী। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, মোথাবাড়ি কাণ্ডে ইন্ধন রয়েছে বিজেপি, মিম ও কংগ্রেসের।
হরিরামপুরের সভা থেকে মমতা ফের একবার প্রশাসনিক রদবদল ইস্যুতে কমিশনকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন,”সব পরিবর্তন করে দিয়েছে। নতুন করে সব ডিজি, সিপি, ডিএম তৈরি করেছে। আমি জানি, তাঁরা সবাই বাংলার লোক। আমার বিশ্বাস বিজেপির কথায় কান না দিয়ে বাংলার জন্য কাজ করবেন তাঁরা। আমার হাত থেকে সব কেড়ে নেওয়া হয়েছে কিছুদিনের জন্য। তারপর আবার আসব। তারপর বিচার হবে। কিন্তু মালদহের মোথাবাড়িতে যে ঘটনা ঘটেছে, যে করেছে তাকে হাতে-নাতে কে ধরেছে জানেন? আমাদের সিআইডি।”
গতকাল একাধিক প্রচার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কালিয়াচকের ঘটনা আসলে বিজেপির গেম প্ল্যান। তাঁর দাবি, হায়দরাবাদ থেকে লোক নিয়ে এসে বিজেপি অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। অর্থাৎ নাম না করে মিম নেতা আসাউদ্দিন ওয়েসিকে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। এদিকে, আজ মালদহের ঘটনায় যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনিও একজন মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম। এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাগডোগরা দিয়ে পালাচ্ছিল। মুম্বই থেকে এসছিল। মুম্বই থেকে বিজেপি ধার করে ওই মিমকে নিয়ে এসছে। আইএসএফ ওদের সঙ্গে রয়েছে। কংগ্রেসেরও উস্কানি রয়েছে। মালদহেও যে অশান্তি হয়েছিল, সেটাও এরাই করেছিল।”
মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সিআইডি তাঁর হাতে রয়েছে। কমিশনের হাতে নেই। এই বিষয়ে মমতা বলেন, “এনআইএ আসার আগেই আমাদের সিআইডি যেটা এখন আমি দেখি, সেই সিআইডি তাকে গ্রেফতার করেছে। মনে রাখবেন সিআইডি কমিশনের হাতে নেই। বাগডোগরা থেকে আসল কালপ্রিটকে ধরেছে সিআইডি।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে আর কী বললেন মমতা?