
শিলিগুড়ি: ৩৪ বছর ধরে যে দলটা বাংলায় রাজত্ব করেছে, আজ তাঁরা শূন্য। নেই বিধায়ক-নেই কোনও সাংসদ। এত খারাপ অবস্থা কেন? প্রতিবার ভোট হয়, তবে হাল কিছুতেই ফেরে না বামেদের। কেন? বামেরা ব্রিগেড ডাকে, মাঠ ভরে যায় লোকে। কিন্তু ভোটের বাক্সে দেখা যায় না কোনও ফল। কেন? এবার এই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটেই ২২ থেকে ২৩ শতাংশ ভোট গেরুয়াতে চলে গেছে। ফেরাতে হবে সেই ভোট। তবেই কাটবে আসনের খরা। দাবি অশোকের।
সিপিএম নেতা অশোকের দাবি, এবার বামেদের ভোট অনেকাংশেই পুনরুদ্ধার হবে। তৃণমূল দুর্নীতি করে তা সকলের জানা। তবে বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদও এখন সকলে জেনে গিয়েছে। ফলে, বিকল্প শক্তি হিসাবে মানুষ বামেদের যে ভাবতে শুরু করেছেন সে কথাই একপ্রকার দাবি করেছেন অশোক। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান এই বাম নেতা বলেন, “আসনের খরা কাটবে। তৃণমূলের স্বরূপ সকলে জেনেছে, তবে এই কয়েক বছরে বিজেপি এক্সপোজ হয়ে গেছে। ২০১৯ সালে যখন লোকসভার নির্বাচন হয়, তখন উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপি কিন্তু খুব লাভবান হয়েছিল। তখন প্রচুর ভোট নষ্ট হয়। আমাদের প্রায় ২২ থেকে ২৩ শতাংশ ভোট বিজেপিতে চলে গিয়েছিল। বাম সমর্থকদের বড় ভোট বিজেপিতে গেছে। সেটা ফেরাতে হবে। হিন্দু-মুসলমানের রাজনীতি করি না। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত করব না।”
ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে বলছি বামের ভোট রামে গেছে। আজ অশোকদা বলছেন ভাল কথা। বিজেপির ভোট তো যায়। এটা সিপিএম-এর অপদার্থতা। যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতা মানে তাঁরা কীভাবে নিজেদের কর্মীদের ধর্মান্ধতার দিকে ঠেলে দিল। এটা তো সিপিএম-এর মাথা ব্যথা হওয়ার কারণ।” বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “সিপিএম-এর থেকে লড়াই সম্ভব নয়, তাই বিজেপিতে এসেছেন আর তাঁরা সম্মানের সঙ্গে লড়াই করছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে।”