Siliguri: আচমকা বন্ধ ‘মডেল স্কুল’, ‘শিক্ষারত্ন’ পাওয়া ‘হেড স্যার’কে ১৫ দিনের ছুটিতে পাঠানো হল কেন!
দিনকয়েক আগে স্কুলের অন্দরেই একদল ছাত্র স্লোগান তোলে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস'। ওই অতিথি শিক্ষককে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলে ছাত্ররা। এরপর বহিরাগতরা আচমকা স্কুলে ঢুকে ছাত্রদের মারধর করে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে স্কুলে সরকারি নিয়মের বাইরে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।

শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরের মুরুলিগঞ্জ হাইস্কুল। ছাত্র সংখ্যা প্রায় ২৯০০। সেই স্কুলেই এবার অচলাবস্থা। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজ্যে শিক্ষারত্ন সম্মান ছাড়াও চারবার রাষ্ট্রপতির পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। স্কুলে আছে ১৪টি স্কুল বাস, ১৭টি পুলকার। রয়েছেন মেট্রন, মালি। ক্লাসে ছাত্রীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, স্কুলে রয়েছে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সও।
সিসিটিভির মোড়কে ঢাকা এই স্কুল যে কোনও বেসরকারি স্কুলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। সেই স্কুলেই আচমকা তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। সাত দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে স্কুল। ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন প্রধান শিক্ষক। কী এমন ঘটল!
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সামসুল আলমের দাবি, স্কুলে নিযুক্ত এক অতিথি শিক্ষক এক ছাত্রকে কান ধরে ৪০০ বার উঠবোস করান। এর আগেও ওই শিক্ষক আর এক ছাত্রকে মেরেছিলেন বলে অভিযোগ। এরপরই ওই অতিথি শিক্ষককে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই গন্ডগোলের সূত্রপাত।
দিনকয়েক আগে স্কুলের অন্দরেই একদল ছাত্র স্লোগান তোলে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। ওই অতিথি শিক্ষককে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলে ছাত্ররা। এরপর বহিরাগতরা আচমকা স্কুলে ঢুকে ছাত্রদের মারধর করে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে স্কুলে সরকারি নিয়মের বাইরে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এরই মধ্য়ে স্থানীয় বিধায়ক প্রধান শিক্ষককে স্কুলে না ঢোকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। কিন্তু স্কুল পরিদর্শক তাঁকে এমন কোনও নির্দেশ দেননি। যদিও পরিস্থিতি দেখে পুলিশের অনুরোধে আমি ১৫ দিনের ছুটি নিই। সাতদিনের জন্য স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে সোমবার জাতীয় সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে অভিভাবকদের একাংশের বিক্ষোভ চলে স্কুলে। অভিযোগ, সরকারি নিয়মে ২৪০ টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও, বছরে নিচ্ছে ৮৪০ টাকা নিচ্ছে স্কুল। ভর্তি হতে গেলে ৩ হাজার টাকা ডোনেশন নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
প্রধান শিক্ষক সামসুর আলম এই প্রসঙ্গে বলেন, “হ্যাঁ, স্কুলে বছরে ৮৫০ টাকা করে নেওয়া হয় পরিচালন সমিতির নির্দেশেই। স্কুলে ২৯০০ ছাত্রের জন্যে মাত্র ১৯ শিক্ষক আছে। ওই টাকায় স্কুলে ২২ জন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া, স্কুলে স্পোকেন ইংলিশ, গিটার শেখান আলাদা শিক্ষকরা। ইংরেজি মাধ্যমের ধাঁচেই চলে এই স্কুল। প্রধান শিক্ষকের প্রশ্ন টাকা না নিলে এই স্কুল চালাবো কী করে? পরিকল্পিতভাবেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় বিধায়ক দুর্গা মুর্মু বলেন, “অতিথি শিক্ষক কাউকে মারধর করেছেন কি না, তার তদন্ত হবে। পাশাপশি প্রধান শিক্ষক স্কুলে ঢুকবেন না তদন্ত শেষ হওয়া অবধি।”
